দেশের আবাসন শিল্প বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা এই খাতের উপর নির্ভরশীল হলেও, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি সরকারের কিছু নীতিও এই ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। খাত-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, অনৈতিকতা এবং ক্রেতা হয়রানির মতো ঘটনা আবাসন শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে, যা এর গতিকে মন্থর করে দিয়েছে।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর সভাপতি কৃষিবিদ ড. আলী আফজাল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই খাতটির বেহাল দশার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ৯৫ শতাংশ ব্যবসায়ীই খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। নির্মাণ ব্যয় ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্ল্যাটের দামও অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে, অধিকাংশ উদ্যোক্তা নতুন প্রকল্প হাতে নিতে পারছেন না এবং পুরনো প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে লোকসানের ভয়ে অনেক কোম্পানি কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
ড. আলী আফজাল উল্লেখ করেন যে, এই বিপর্যয় হঠাৎ করে আসেনি। এর সূচনা ২০০৯ সালে এবং ২০১০ সালে তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের রিহ্যাব দখলের পর তা আরও বেগবান হয়। করোনা মহামারির সময়েও এই খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রিহ্যাবকে ব্যবহার করে নসরুল হামিদ বিপু-শামসুল আলামিন চক্রের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্রেতা হয়রানিতে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের প্রতি চরম আস্থাহীনতা এই পরিণতির জন্য দায়ী।’
রিহ্যাব সভাপতি আরও অভিযোগ করেন যে, আমলাতন্ত্রের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, অসাধু ব্যবসায়ী ও লুটেরা রাজনীতিবিদদের সিন্ডিকেট দেশ ধ্বংসের মূল হোতা। বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে অনির্বাচিত পকেট কমিটি দিয়ে আবাসন শিল্প খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। নেতৃত্বের আড়ালে রিহ্যাব সদস্যদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং দেশে-বিদেশে মেলা আয়োজনের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে রিহ্যাব বা প্রকৃত আবাসন ব্যবসায়ীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 



















