যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিভিন্ন মুসলিম দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে মতবিনিময় হয়।
তেহরান থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরানের সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় নিরাপত্তার ওপর কোনো হামলা হলে তার ‘কঠোর ও সুনির্দিষ্ট’ জবাব দেওয়া হবে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের সদস্য ইবরাহিম রেজাই আরও সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ধরনের আক্রমণ হলে তাদের পাল্টা জবাব কেবল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বের যেখানেই শত্রুর ঘাঁটি বা হামলার উৎস থাকবে, সেখানেই আঘাত হানা হবে।
এই হুমকির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘দ্রুত’ একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তে দেশটিতে সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শেষেই ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ট্রাম্পের এই ঘোষণা সেই জল্পনার মধ্যেই আসে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল সংক্রান্ত বিধি উপেক্ষা করে এবং অনুমোদনহীন নৌপথ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এছাড়াও, তেহরানের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজের আড়ালে সামরিক তৎপরতা পরিচালনার মাধ্যমে ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতিকে ক্ষুণ্ন করছে। ইরান নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ, নৌ অবরোধ কার্যকর করা এবং বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলারও অভিযোগ তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















