ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণসহ ১০ দফা দাবি, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদ শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, শিক্ষকদের আন্তঃবদলির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং পৃথক কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠাসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এই দাবিগুলো তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবুল বাশার। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের অন্যতম ভিত্তি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, বৈষম্য, প্রশাসনিক জটিলতা ও সুশাসনের অভাবে এই খাত সংকটের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দাবিগুলো বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে তাদের আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নেওয়া এবং সরকারি চাকরির আদলে শিক্ষকদের আন্তঃবদলির ব্যবস্থা চালু করা। এছাড়া দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে অন্তত দুটি করে কারিগরি ট্রেড কোর্স চালু এবং প্রতি ট্রেডে দুজন করে ট্রেড ইন্সট্রাক্টরের পদ পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়। প্রতি মাসের ১ তারিখের মধ্যে বেতন নিশ্চিত করা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠে আসে।

সংগঠনটি বিএড, উচ্চতর স্কেল ও এমপিও আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করার দাবি জানায়, পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া সব এমপিওভুক্ত কারিগরি প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবিও তুলে ধরা হয়।

দাবিপত্রে মাধ্যমিক পর্যায়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক (কারিগরি) পদ সৃষ্টি এবং পৃথক কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পায়। এর পাশাপাশি কারিগরি কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিকদের দশম গ্রেড প্রদান এবং নন-এমপিও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে এই খাতের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনিক জটিলতা, বেতন-ভাতা প্রদানে বিলম্বসহ বিভিন্ন কারণে তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গবেষণানির্ভর কৃষি উন্নয়নে জোর দিচ্ছে তারেক রহমান সরকার: কৃষিমন্ত্রী

কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণসহ ১০ দফা দাবি, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদ শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, শিক্ষকদের আন্তঃবদলির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং পৃথক কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠাসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এই দাবিগুলো তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবুল বাশার। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের অন্যতম ভিত্তি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, বৈষম্য, প্রশাসনিক জটিলতা ও সুশাসনের অভাবে এই খাত সংকটের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দাবিগুলো বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে তাদের আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নেওয়া এবং সরকারি চাকরির আদলে শিক্ষকদের আন্তঃবদলির ব্যবস্থা চালু করা। এছাড়া দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে অন্তত দুটি করে কারিগরি ট্রেড কোর্স চালু এবং প্রতি ট্রেডে দুজন করে ট্রেড ইন্সট্রাক্টরের পদ পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়। প্রতি মাসের ১ তারিখের মধ্যে বেতন নিশ্চিত করা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠে আসে।

সংগঠনটি বিএড, উচ্চতর স্কেল ও এমপিও আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করার দাবি জানায়, পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া সব এমপিওভুক্ত কারিগরি প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবিও তুলে ধরা হয়।

দাবিপত্রে মাধ্যমিক পর্যায়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক (কারিগরি) পদ সৃষ্টি এবং পৃথক কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পায়। এর পাশাপাশি কারিগরি কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিকদের দশম গ্রেড প্রদান এবং নন-এমপিও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে এই খাতের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনিক জটিলতা, বেতন-ভাতা প্রদানে বিলম্বসহ বিভিন্ন কারণে তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।