ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

ক্যান্সার গবেষণায় আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেলেন চাঁদপুরের ড. আবু আলী সিনা

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান খাতে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (এনএইচএমআরসি) ইনভেস্টিগেটর গ্র্যান্ট’ (ইমার্জিং লিডারশিপ লেভেল-২) অর্জন করেছেন চাঁদপুরের কৃতি গবেষক ড. আবু আলী সিনা। প্রায় ১৬ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার মূল্যের এই সম্মানজনক অনুদান তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘সিনা ল্যাব’-এর ক্যান্সার শনাক্তকরণ বিষয়ক অত্যাধুনিক গবেষণায় ব্যয় করা হবে।

এনএইচএমআরসি সম্প্রতি এই অনুদানের ফলাফল ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি গবেষণায় অসাধারণ অবদান, শক্তিশালী গবেষণা-নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে নির্বাচিত গবেষকদের এই অর্থায়ন করে থাকে, যা অস্ট্রেলিয়ায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সম্মানগুলির মধ্যে একটি।

ড. আবু আলী সিনার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায়। তাঁর বাবা শহীদুল্লা মাষ্টার এবং মা সুরাইয়া বেগম। বর্তমানে তিনি স্ত্রী সাবিহা সুলতানা ও ছেলে জাবির ইবনে হাইয়্যানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বসবাস করছেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি কর্মজীবনের শুরুতে একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।

পরবর্তীতে গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষায় নিজেকে উৎসর্গ করতে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। সেখান থেকে শিক্ষা ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পিএইচডি গবেষণার সময় থেকেই তিনি ক্যান্সার গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (ইউএনএসডব্লিউ) সিডনিতে সিনা ল্যাবের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সিনা ল্যাব জানিয়েছে, এই নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে রক্তভিত্তিক নতুন প্রজন্মের বায়োমার্কার শনাক্তকরণ, ন্যানো প্রযুক্তি নির্ভর ডায়াগনস্টিক প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন এবং ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা পরিচালিত হবে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যার মাধ্যমে ক্যান্সার আরও দ্রুত, নির্ভুল ও সহজ উপায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। গবেষণাগারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এই অনুদান গবেষণার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি: মিত্রতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান

ক্যান্সার গবেষণায় আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেলেন চাঁদপুরের ড. আবু আলী সিনা

আপডেট সময় : ০৩:১৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান খাতে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (এনএইচএমআরসি) ইনভেস্টিগেটর গ্র্যান্ট’ (ইমার্জিং লিডারশিপ লেভেল-২) অর্জন করেছেন চাঁদপুরের কৃতি গবেষক ড. আবু আলী সিনা। প্রায় ১৬ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার মূল্যের এই সম্মানজনক অনুদান তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘সিনা ল্যাব’-এর ক্যান্সার শনাক্তকরণ বিষয়ক অত্যাধুনিক গবেষণায় ব্যয় করা হবে।

এনএইচএমআরসি সম্প্রতি এই অনুদানের ফলাফল ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি গবেষণায় অসাধারণ অবদান, শক্তিশালী গবেষণা-নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে নির্বাচিত গবেষকদের এই অর্থায়ন করে থাকে, যা অস্ট্রেলিয়ায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সম্মানগুলির মধ্যে একটি।

ড. আবু আলী সিনার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায়। তাঁর বাবা শহীদুল্লা মাষ্টার এবং মা সুরাইয়া বেগম। বর্তমানে তিনি স্ত্রী সাবিহা সুলতানা ও ছেলে জাবির ইবনে হাইয়্যানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বসবাস করছেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি কর্মজীবনের শুরুতে একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।

পরবর্তীতে গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষায় নিজেকে উৎসর্গ করতে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। সেখান থেকে শিক্ষা ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পিএইচডি গবেষণার সময় থেকেই তিনি ক্যান্সার গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (ইউএনএসডব্লিউ) সিডনিতে সিনা ল্যাবের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সিনা ল্যাব জানিয়েছে, এই নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে রক্তভিত্তিক নতুন প্রজন্মের বায়োমার্কার শনাক্তকরণ, ন্যানো প্রযুক্তি নির্ভর ডায়াগনস্টিক প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন এবং ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা পরিচালিত হবে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যার মাধ্যমে ক্যান্সার আরও দ্রুত, নির্ভুল ও সহজ উপায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। গবেষণাগারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এই অনুদান গবেষণার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।