ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতা ও সম্মিলিত পদক্ষেপ জরুরি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

চলতি ২০২৬ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো সুনির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা কার্যকর ওষুধ না থাকায় জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এডিস মশার প্রধান উৎপত্তিস্থল আমাদের বাড়িঘর, ছাদ এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল উপায় হলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ। এর জন্য বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় পাত্রসমূহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া আবশ্যক। ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পানির পাত্রে যেন কোনোভাবেই পাঁচদিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে ১৪ হাজার ১৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মোট ১৭ হাজার ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন। উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন মন্তব্য করেছেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতালে সীমাবদ্ধ নয়, এর শুরু হতে হবে মানুষের বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্থানীয় জনসমাজ থেকে। তিনি দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ড. মুশতাক আরও বলেন, বৃষ্টিকে যদি আমরা ডেঙ্গুর জন্য কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখি, তাহলে সংকট আরও গভীর হবে। কিন্তু বৃষ্টির পর যদি কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা যায়, তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি: মিত্রতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতা ও সম্মিলিত পদক্ষেপ জরুরি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

আপডেট সময় : ০৩:১৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

চলতি ২০২৬ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো সুনির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা কার্যকর ওষুধ না থাকায় জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এডিস মশার প্রধান উৎপত্তিস্থল আমাদের বাড়িঘর, ছাদ এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল উপায় হলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ। এর জন্য বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় পাত্রসমূহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া আবশ্যক। ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পানির পাত্রে যেন কোনোভাবেই পাঁচদিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে ১৪ হাজার ১৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মোট ১৭ হাজার ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন। উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন মন্তব্য করেছেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতালে সীমাবদ্ধ নয়, এর শুরু হতে হবে মানুষের বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্থানীয় জনসমাজ থেকে। তিনি দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ড. মুশতাক আরও বলেন, বৃষ্টিকে যদি আমরা ডেঙ্গুর জন্য কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখি, তাহলে সংকট আরও গভীর হবে। কিন্তু বৃষ্টির পর যদি কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা যায়, তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।