ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, গালিগালাজ কখনোই কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং এমন আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংযম ও ক্ষমার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘যন্তর-মন্তরে যা ঘটেছে, তা পুরো দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিভ্রান্ত তরুণেরা এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আমাকে তো বটেই, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনা তাকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত করেছে।
তবে, এ ঘটনার জবাবে রাগ বা প্রতিশোধের পথ সমর্থন করেন না জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, তরুণদের ভুল থেকে শেখার সুযোগ থাকা উচিত। শৈশব ও কৈশোরে মানুষ ভুল করতেই পারে, আর তরুণ বয়সের আসল অর্থই হলো ভুল শুধরে নেওয়া। তিনি বলেন, ‘সমাজজুড়ে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা আমি বুঝি। কিন্তু এখন সময় এই সন্তানদের বুকে টেনে নিয়ে সঠিক পথ দেখানোর। ওদের শাস্তি দেওয়া, আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া কিংবা হয়রানি করা হলে পরিস্থিতি বদলাবে না।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই এবং সমাজের কাছেও অনুরোধ করছি আমার এই বক্তব্য গ্রহণ করার জন্য। আসুন, আমরা বিভ্রান্ত তরুণদের পথ দেখাই এবং সবাই মিলে ভারতের জন্য কাজ করি।’
উল্লেখ্য, আপত্তিকর স্লোগানের ঘটনায় ২৫ বছর বয়সি এক তরুণীর বিরুদ্ধে নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে পুলিশ স্টেশনে ‘জিরো এফআইআর’ নথিভুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ (শান্তি ভঙ্গের উসকানি), ৩৫৩(১) (জনপরিসরে উসকানিমূলক মন্তব্য) এবং ৩৫৬(১) (মানহানি) ধারায় মামলাটি করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে, পুলিশি ও আইনি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন কাকরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস।
রিপোর্টারের নাম 





















