ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: রুশ বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিগতকৃত টিকার প্রথম প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক ফল

রাশিয়ায় উদ্ভাবিত ত্বকের ক্যানসার মেলানোমা চিকিৎসার জন্য তৈরি ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিনের প্রথম প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। দেশটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে কাঙ্ক্ষিত রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।

গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গ জানান, ‘নিওনকোভ্যাক’ নামের এমআরএনএ-ভিত্তিক এই ভ্যাকসিন গ্রহণের পর রোগীর শরীরে টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বছর দুটি ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার চিকিৎসা প্রযুক্তির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য তৈরি নিওনকোভ্যাক এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারের জন্য উদ্ভাবিত পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ উল্লেখযোগ্য।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে প্রথমবারের মতো এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোগীকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো চিকিৎসা চলাকালে তার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

গিনজবার্গ আরও জানান, বর্তমানে আরও ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিগতকৃত এই ভ্যাকসিন প্রস্তুতের কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছে। এতে কেবল রোগের চিকিৎসাই নয়, বরং রোগীর নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুত করা হয়।

এই পদ্ধতিতে রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য আলাদাভাবে এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, যা ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে’, ‘ডিপ পাওয়ার’ সক্রিয়: সাবেক শিবির সভাপতি

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: রুশ বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিগতকৃত টিকার প্রথম প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক ফল

আপডেট সময় : ১১:১৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

রাশিয়ায় উদ্ভাবিত ত্বকের ক্যানসার মেলানোমা চিকিৎসার জন্য তৈরি ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিনের প্রথম প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। দেশটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে কাঙ্ক্ষিত রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।

গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গ জানান, ‘নিওনকোভ্যাক’ নামের এমআরএনএ-ভিত্তিক এই ভ্যাকসিন গ্রহণের পর রোগীর শরীরে টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বছর দুটি ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার চিকিৎসা প্রযুক্তির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য তৈরি নিওনকোভ্যাক এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারের জন্য উদ্ভাবিত পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ উল্লেখযোগ্য।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে প্রথমবারের মতো এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোগীকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো চিকিৎসা চলাকালে তার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

গিনজবার্গ আরও জানান, বর্তমানে আরও ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিগতকৃত এই ভ্যাকসিন প্রস্তুতের কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছে। এতে কেবল রোগের চিকিৎসাই নয়, বরং রোগীর নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুত করা হয়।

এই পদ্ধতিতে রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য আলাদাভাবে এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, যা ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।