ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মিথ্যা ঘোষণায় কোটি টাকার পণ্য আমদানি: ঢাকায় বিমানবন্দরে আটক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ১০১ কার্টন পণ্য আটক করেছে। আটক পণ্যের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ব্যবহৃত অটোমোবাইল পার্টস, হাতঘড়ি, হার্ডড্রাইভ ও মিনি পিসিসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া গেছে। এই চালানটির বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তর এবং এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তারা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানস্থল ছিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকার ডেলিভারি গেট নম্বর ৮-সংলগ্ন ইয়ার্ড। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান Sardar Global Trade সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে Air Waybill No. 176-63518722-এর মাধ্যমে পণ্যচালানটি আমদানি করে। চালানে মোটর পার্টস, কসমেটিকস, মিনি পিসি, ট্যাবলেট, প্রজেক্টর ও কম্পিউটার পার্টসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

পণ্যচালানটি খালাসের উদ্দেশে আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট Fahim 5 Star Ltd.-এর মাধ্যমে ASYCUDA World System-এ বিল অব এন্ট্রি নম্বর C-764177, ২৯ জুলাই দাখিল করা হয়। তবে পণ্যচালানটির বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাছে পূর্ব থেকেই গোপন তথ্য ছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করে কায়িক পরীক্ষা শুরু করা হয়। কায়ীক পরীক্ষায় দেখা যায়, নতুন পণ্যের ঘোষণার আড়ালে পুরোনো ও ব্যবহৃত পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা ঘোষণাবহির্ভূত এবং আমদানি বিধি লঙ্ঘনের শামিল।

মোট ১০১টি কার্টনের মধ্যে Laptop (HP, DELL, Lenovo, Microsoft) ৪৫০ পিস, Car Parts ৯৬৩.৮ কেজি, HDD 6TB ৯৬ পিস, কসমেটিক্স ২৯১.১৪ কেজি, Mini PC ৯৬ পিস (ব্যবহৃত) পাওয়া গেছে। আমদানি নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এই পণ্য শুল্ক-কর দিয়ে আইনানুগভাবে খালাসের কোনো সুযোগ নেই। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, আমদানি শর্ত পূরণযোগ্য না হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কসমেটিক্স এভাবে খালাসের অপচেষ্টা করা হয়। ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আমদানি নিষিদ্ধ কারণ এগুলো নতুন হিসেবে বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারণা করার ঝুঁকি রয়েছে এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আর মোটর পার্টস আসলে Unassembled গাড়ি কি-না, যার চেসিস হয়ত কন্টেইনারে আলাদাভাবে আনা হতে পারে, এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রান্সজেন্ডার বিয়েতে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি নেজামে ইসলাম পার্টির

মিথ্যা ঘোষণায় কোটি টাকার পণ্য আমদানি: ঢাকায় বিমানবন্দরে আটক

আপডেট সময় : ০৯:১৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ১০১ কার্টন পণ্য আটক করেছে। আটক পণ্যের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ব্যবহৃত অটোমোবাইল পার্টস, হাতঘড়ি, হার্ডড্রাইভ ও মিনি পিসিসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া গেছে। এই চালানটির বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তর এবং এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তারা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানস্থল ছিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকার ডেলিভারি গেট নম্বর ৮-সংলগ্ন ইয়ার্ড। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান Sardar Global Trade সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে Air Waybill No. 176-63518722-এর মাধ্যমে পণ্যচালানটি আমদানি করে। চালানে মোটর পার্টস, কসমেটিকস, মিনি পিসি, ট্যাবলেট, প্রজেক্টর ও কম্পিউটার পার্টসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

পণ্যচালানটি খালাসের উদ্দেশে আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট Fahim 5 Star Ltd.-এর মাধ্যমে ASYCUDA World System-এ বিল অব এন্ট্রি নম্বর C-764177, ২৯ জুলাই দাখিল করা হয়। তবে পণ্যচালানটির বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাছে পূর্ব থেকেই গোপন তথ্য ছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করে কায়িক পরীক্ষা শুরু করা হয়। কায়ীক পরীক্ষায় দেখা যায়, নতুন পণ্যের ঘোষণার আড়ালে পুরোনো ও ব্যবহৃত পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা ঘোষণাবহির্ভূত এবং আমদানি বিধি লঙ্ঘনের শামিল।

মোট ১০১টি কার্টনের মধ্যে Laptop (HP, DELL, Lenovo, Microsoft) ৪৫০ পিস, Car Parts ৯৬৩.৮ কেজি, HDD 6TB ৯৬ পিস, কসমেটিক্স ২৯১.১৪ কেজি, Mini PC ৯৬ পিস (ব্যবহৃত) পাওয়া গেছে। আমদানি নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এই পণ্য শুল্ক-কর দিয়ে আইনানুগভাবে খালাসের কোনো সুযোগ নেই। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, আমদানি শর্ত পূরণযোগ্য না হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কসমেটিক্স এভাবে খালাসের অপচেষ্টা করা হয়। ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আমদানি নিষিদ্ধ কারণ এগুলো নতুন হিসেবে বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারণা করার ঝুঁকি রয়েছে এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আর মোটর পার্টস আসলে Unassembled গাড়ি কি-না, যার চেসিস হয়ত কন্টেইনারে আলাদাভাবে আনা হতে পারে, এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।