ইতিহাসের পাতায় ২১ জুলাই তারিখটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। ১৯৪৭ সালের এই দিনে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় তৎকালীন মুসলিম নারীদের প্রথম সচিত্র সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’ প্রকাশিত হয়। এছাড়া ১৬৫৮ সালের একই দিনে মোগল যুবরাজ আওরঙ্গজেব আলমগীর প্রথমবারের মতো দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ১৯৭৬ সালে সামরিক আদালতের রায়ে কর্নেল আবু তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
ফিরে তাকালে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক রক্তক্ষয়ী ও পরিবর্তনের অধ্যায়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাইয়ের শেষ দিনগুলোতে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২৮ জুলাই তৎকালীন ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয় আন্দোলনের সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকে। একই দিনে ডিবি কার্যালয় থেকে সমন্বয়কদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়, যা ছাত্রসমাজ ‘জোরপূর্বক আদায় করা’ বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং দেশব্যাপী নতুন বিক্ষোভের ডাক দেয়।
২৯ জুলাই ২০২৪-এ তৎকালীন ১৪ দলের বৈঠকে বিতর্কিতভাবে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সময় ডিবি হেফাজতে থাকা সমন্বয়কদের মুক্তির দাবিতে উচ্চ আদালতে রিট করা হলে আদালত সমন্বয়কদের ছবি প্রকাশ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাল প্রোফাইল ছবি ব্যবহারের কর্মসূচি পালন করে।
৩০ জুলাই ২০২৪ তারিখটি ছিল ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের এক অনন্য দিন। মুখ ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে সাধারণ মানুষ হত্যার বিচার দাবি করে। তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি সেই সময় গণঅভ্যুত্থানের ভিত আরও মজবুত করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে।
রিপোর্টারের নাম 
























