ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সাটুরিয়ায় খাল খনন প্রকল্পে স্বচ্ছতা: সাশ্রয় হওয়া সোয়া কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা ও মিতব্যয়িতার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। উপজেলার চন্দ্রখালী খাল পুনঃখনন কাজ শেষে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্য থেকে ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা অব্যয়িত থাকায় তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের সুশাসনের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গাজীখালী নদীর উৎসমুখ থেকে বালিয়াটি খলিলাবাদ পর্যন্ত ৬.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চন্দ্রখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৬২৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার পর বড় অঙ্কের এই অর্থ সাশ্রয় হয়। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাজী অনিক ইসলামের এই সততা ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ সুশাসনের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।

প্রকল্পের আওতায় কেবল খাল খননই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলাধার সংরক্ষণের লক্ষ্যে খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণও করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা মেনে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কয়েকবার খালের পাড় মেরামত করতে হলেও বাজেটের মধ্যে থেকেই তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, সরকারি প্রকল্পের টাকা সাশ্রয় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া একটি ইতিবাচক ও বিরল দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজী অনিক ইসলাম জানান, ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রখালী খালটি দীর্ঘদিন দখল ও ভরাট হয়ে অকেজো অবস্থায় ছিল। বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এটি পুনরায় সচল করা হয়েছে। খালের বিভিন্ন অংশে প্রস্থের ভিন্নতা থাকায় প্রাক্কলনের চেয়ে কম ব্যয়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো আসেনি, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে’: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল

সাটুরিয়ায় খাল খনন প্রকল্পে স্বচ্ছতা: সাশ্রয় হওয়া সোয়া কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত

আপডেট সময় : ০২:২৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা ও মিতব্যয়িতার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। উপজেলার চন্দ্রখালী খাল পুনঃখনন কাজ শেষে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্য থেকে ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা অব্যয়িত থাকায় তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের সুশাসনের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গাজীখালী নদীর উৎসমুখ থেকে বালিয়াটি খলিলাবাদ পর্যন্ত ৬.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চন্দ্রখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৬২৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার পর বড় অঙ্কের এই অর্থ সাশ্রয় হয়। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাজী অনিক ইসলামের এই সততা ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ সুশাসনের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।

প্রকল্পের আওতায় কেবল খাল খননই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলাধার সংরক্ষণের লক্ষ্যে খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণও করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা মেনে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কয়েকবার খালের পাড় মেরামত করতে হলেও বাজেটের মধ্যে থেকেই তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, সরকারি প্রকল্পের টাকা সাশ্রয় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া একটি ইতিবাচক ও বিরল দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজী অনিক ইসলাম জানান, ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রখালী খালটি দীর্ঘদিন দখল ও ভরাট হয়ে অকেজো অবস্থায় ছিল। বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এটি পুনরায় সচল করা হয়েছে। খালের বিভিন্ন অংশে প্রস্থের ভিন্নতা থাকায় প্রাক্কলনের চেয়ে কম ব্যয়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।