ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৩ বছর পর চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র হত্যা মামলার রায়: দুই খুনির যাবজ্জীবন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নাটোর: দীর্ঘ ১৩ বছর পর চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই আলোচিত ঘটনায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে আরও তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (আজ) নাটোরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

জানা যায়, নিহত কলেজছাত্র মো. কাহার ছিলেন সিংড়া উপজেলার বড়গ্রামের বাসিন্দা মাদরাসা শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদের একমাত্র ছেলে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মাসুদ রানা ও মিজানুর রহমান মিন্টু একই গ্রামের বাসিন্দা।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর। সেদিন বাড়ি থেকে বন্ধুরা কাহারকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন পাশের একটি ফসলি জমিতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করা অবস্থায় কাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আব্দুর রশিদ সিংড়া থানায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা পায়নি।

পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, নিহত কলেজছাত্র কাহারের প্রেমিকার সাথে একই গ্রামের মাসুদ রানার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পরও কাহার সেই মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলতেন এবং কথোপকথনের রেকর্ড অন্যদের শোনাতেন। এতে মাসুদ রানা সামাজিকভাবে অসম্মানিত বোধ করেন এবং কাহারকে এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। কিন্তু কাহার উল্টো ওই রেকর্ডগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এই ঘটনা মাসুদ রানাকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। তিনি তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিন্টুকে সাথে নিয়ে কাহারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন এবং সেই অনুযায়ী তারা দু’জন মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রুহুল আমিন তালুকদার টগর রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার পর নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, দুই আসামির আদালতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করার পর তিনি ফাঁসির আশা করেছিলেন। তবে ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উজিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ভস্ম, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

১৩ বছর পর চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র হত্যা মামলার রায়: দুই খুনির যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৫:১৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাটোর: দীর্ঘ ১৩ বছর পর চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই আলোচিত ঘটনায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে আরও তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (আজ) নাটোরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

জানা যায়, নিহত কলেজছাত্র মো. কাহার ছিলেন সিংড়া উপজেলার বড়গ্রামের বাসিন্দা মাদরাসা শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদের একমাত্র ছেলে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মাসুদ রানা ও মিজানুর রহমান মিন্টু একই গ্রামের বাসিন্দা।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর। সেদিন বাড়ি থেকে বন্ধুরা কাহারকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন পাশের একটি ফসলি জমিতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করা অবস্থায় কাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আব্দুর রশিদ সিংড়া থানায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা পায়নি।

পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, নিহত কলেজছাত্র কাহারের প্রেমিকার সাথে একই গ্রামের মাসুদ রানার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পরও কাহার সেই মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলতেন এবং কথোপকথনের রেকর্ড অন্যদের শোনাতেন। এতে মাসুদ রানা সামাজিকভাবে অসম্মানিত বোধ করেন এবং কাহারকে এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। কিন্তু কাহার উল্টো ওই রেকর্ডগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এই ঘটনা মাসুদ রানাকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। তিনি তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিন্টুকে সাথে নিয়ে কাহারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন এবং সেই অনুযায়ী তারা দু’জন মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রুহুল আমিন তালুকদার টগর রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার পর নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, দুই আসামির আদালতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করার পর তিনি ফাঁসির আশা করেছিলেন। তবে ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন।