নরসিংদীর মাধবদীতে এক মর্মান্তিক ঘটনায় বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ১৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালির চর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনা আক্তার নামে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ছিল। এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আমেনার বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। তিনি কাজের সূত্রে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে একই এলাকার বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরা এবং তার আরও ৫-৬ জন সহযোগীর বিরুদ্ধে আমেনাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বুধবার রাতে আশরাফ হোসেন কাজ শেষে তার মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নূরা ও তার দল বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। পরদিন সকালে স্থানীয়রা একটি সরিষা ক্ষেতে আমেনার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
নিহত আমেনার বাবা আশরাফ হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন লোক আমার চোখের সামনে থেকে আমার মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। আমরা রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাইনি। সকালে জানতে পারি আমেনার লাশ সরিষা ক্ষেতে পড়ে আছে। আমি আমার সন্তানের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মেয়েটির সাথে নূরা নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা মেয়েটির পরিবার মেনে নেয়নি। বুধবার রাতে তাকে বাবার কাছ থেকে নূরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অপরাধীদের ধরতে কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান। পুলিশ এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি।
রিপোর্টারের নাম 





















