সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রায় এক বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিবের বিরুদ্ধে চার সম্পাদক ও এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১১ জুলাই মতিহার থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিবাদী তালিকায় রয়েছেন রাবি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহসভাপতি এবং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশনসহ চার গণমাধ্যমের সম্পাদক। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই মামলাটি এখনো নথিভুক্ত করা হয়নি এবং তদন্ত চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালের ১৩ জুলাই। অভিযোগ ওঠে, হাসিবুল ইসলাম হাসিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরে জব্দ থাকা এক ব্যবসায়ীর ফুডকার্ট মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই স্টোর শাখা থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফুডকার্টটি ফিরে পেতে ওই ব্যবসায়ী সাংবাদিকদের সহায়তা চাইলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ফুডকার্টটি ওই ব্যবসায়ীর কাছে ফেরত দেন।
প্রায় নয় মাস পর, ২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এলাকায় বহিরাগতদের নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ওঠে হাসিবের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসসহ ২০ থেকে ২৫টি পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ওই দুটি সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ১১ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করেন হাসিবুল ইসলাম হাসিব। মামলায় তিনি দাবি করেন, তাকে হেয়প্রতিপন্ন এবং রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, সকালের বুলেটিনের সম্পাদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সম্পাদক এবং এনটিভি অনলাইনের সম্পাদককে। এছাড়া, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী হাসানকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
ফুডকার্ট সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে মামলার এজাহারে হাসিব দাবি করেছেন যে তিনি ফুডকার্টের মালিককে সেটি ফিরে পেতে সহায়তা করেছিলেন। তবে, ফুডকার্টটি ফেরত নেওয়ার জন্য হাসিবের নিজের হাতে লেখা একটি আবেদনপত্রের কপি এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা তার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রিপোর্টারের নাম 



















