ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি ইবির ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প, ফের সময় বৃদ্ধির উদ্যোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫৩৭ কোটি সাত লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না, যদিও এর মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। ২০১৮ সালে অনুমোদনের পর প্রাথমিকভাবে চার বছর সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে তিন দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদও গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের অধীনে থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের নির্মাণকাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রমতে, ২০১৮ সালের জুনে একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পের প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রথমে এক বছর, পরে আরও এক বছর এবং সবশেষে দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধির পরও প্রকল্পটি শেষ করতে না পারায় বর্তমানে আবারও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

৫৩৭ কোটি সাত লাখ টাকার এই প্রকল্পের আওতায় ৯টি নতুন ১০ তলা ভবন নির্মাণ এবং ১১টি বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ছাত্র হল, দুটি ছাত্রী হল, একটি একাডেমিক ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন এবং একটি দ্বিতীয় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের কথা ছিল। এছাড়াও, একাডেমিক ভবন, চিকিৎসা কেন্দ্র, টিএসসিসি, ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ মোট ১১টি ভবনের সম্প্রসারণের কাজও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রসারণের অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও নতুন ভবনগুলোর নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। প্রকল্পের ৩৪টি অঙ্গের মধ্যে ১৮টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কাটছে না। পাঁচটি হলের নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রায় চার হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী নতুনভাবে আবাসিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে প্রতিটি নতুন হলে এক হাজার এবং শহীদ আনাস হলের বর্ধিত অংশে ৫০০ শিক্ষার্থী থাকার সুযোগ পাবে।

প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. নওয়াব আলী বলেন, প্রকল্পের প্রস্তাবনা আসে ২০১৮ সালে এবং কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। তবে ২০২০ সালের করোনা মহামারির কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়া পেতে প্রায় বছর দেড়েকের মতো বিলম্ব হয়। এছাড়াও, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজে ধীরগতি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন প্রশাসনের নিরন্তর প্রচেষ্টাও কাজে আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বাড়ল ৭ হাজার

তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি ইবির ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প, ফের সময় বৃদ্ধির উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১০:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫৩৭ কোটি সাত লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না, যদিও এর মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। ২০১৮ সালে অনুমোদনের পর প্রাথমিকভাবে চার বছর সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে তিন দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদও গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের অধীনে থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের নির্মাণকাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রমতে, ২০১৮ সালের জুনে একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পের প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রথমে এক বছর, পরে আরও এক বছর এবং সবশেষে দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধির পরও প্রকল্পটি শেষ করতে না পারায় বর্তমানে আবারও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

৫৩৭ কোটি সাত লাখ টাকার এই প্রকল্পের আওতায় ৯টি নতুন ১০ তলা ভবন নির্মাণ এবং ১১টি বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ছাত্র হল, দুটি ছাত্রী হল, একটি একাডেমিক ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন এবং একটি দ্বিতীয় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের কথা ছিল। এছাড়াও, একাডেমিক ভবন, চিকিৎসা কেন্দ্র, টিএসসিসি, ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ মোট ১১টি ভবনের সম্প্রসারণের কাজও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রসারণের অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও নতুন ভবনগুলোর নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। প্রকল্পের ৩৪টি অঙ্গের মধ্যে ১৮টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কাটছে না। পাঁচটি হলের নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রায় চার হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী নতুনভাবে আবাসিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে প্রতিটি নতুন হলে এক হাজার এবং শহীদ আনাস হলের বর্ধিত অংশে ৫০০ শিক্ষার্থী থাকার সুযোগ পাবে।

প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. নওয়াব আলী বলেন, প্রকল্পের প্রস্তাবনা আসে ২০১৮ সালে এবং কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। তবে ২০২০ সালের করোনা মহামারির কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়া পেতে প্রায় বছর দেড়েকের মতো বিলম্ব হয়। এছাড়াও, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজে ধীরগতি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন প্রশাসনের নিরন্তর প্রচেষ্টাও কাজে আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।