ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

দৃষ্টিশক্তি হারানো জুয়েলের অদম্য লড়াই: বাদাম বিক্রি করেই চারজনের সংসার

চোখে আলো না থাকলেও জীবনের লক্ষ্য অটুট। কারো কাছে হাত না পেতে, মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম শ্যামপুর গ্রামের ৪০ বছর বয়সী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জুয়েল। জন্মগতভাবে সুস্থ সবল জুয়েল মাত্র সাত মাস বয়সে হাম ও টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারান। দুই ভাই দুই বোনের সংসারে বোনদের বিয়ে এবং বড় ভাইয়ের আলাদা সংসার শুরু করার পর, ২০০৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর জুয়েলের জীবনে শুরু হয় কঠিন লড়াই।

জীবনের তাগিদে, বৃদ্ধা মা, নিজের স্ত্রী, সন্তান এবং নিজের অন্নসংস্থানের জন্য জুয়েল বাদাম বিক্রি শুরু করেন। ২৫ বছর ধরে তিনি একাই এই বাদাম বিক্রির পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল হলেই নিজ বাড়ি থেকে বাদাম ভর্তি খাঁচা ও হাতে লাঠি নিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করে তিনি চারজনের সংসার চালান। তার প্রতিদিনের রোজগার ২০০ টাকা থেকে ৫০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা দিয়ে তিনি সংসার খরচ, ওষুধ এবং ছেলের লেখাপড়ার খরচ মেটান। এছাড়া তিনি একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডও পেয়েছেন, যা তার জীবনযাত্রায় কিছুটা হলেও সহায়তা করে।

স্থানীয়রা জুয়েলের এই সংগ্রামী জীবনযাপনের প্রশংসা করে বলেন, জুয়েল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও ছোটবেলা থেকেই লাঠি নিয়ে একা চলাফেরা করতেন এবং কখনো কারো কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি। তিনি নিজের রোজগারে সংসার চালান এবং মায়ের দেখাশোনা করেন। সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী জাফর জুয়েলের এই সংগ্রামী জীবনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তার নামে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড রয়েছে এবং যেকোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে ইউনিয়ন পরিষদ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা দেখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নকলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির করুণ মৃত্যু, পিকআপ আটক

দৃষ্টিশক্তি হারানো জুয়েলের অদম্য লড়াই: বাদাম বিক্রি করেই চারজনের সংসার

আপডেট সময় : ১০:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

চোখে আলো না থাকলেও জীবনের লক্ষ্য অটুট। কারো কাছে হাত না পেতে, মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম শ্যামপুর গ্রামের ৪০ বছর বয়সী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জুয়েল। জন্মগতভাবে সুস্থ সবল জুয়েল মাত্র সাত মাস বয়সে হাম ও টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারান। দুই ভাই দুই বোনের সংসারে বোনদের বিয়ে এবং বড় ভাইয়ের আলাদা সংসার শুরু করার পর, ২০০৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর জুয়েলের জীবনে শুরু হয় কঠিন লড়াই।

জীবনের তাগিদে, বৃদ্ধা মা, নিজের স্ত্রী, সন্তান এবং নিজের অন্নসংস্থানের জন্য জুয়েল বাদাম বিক্রি শুরু করেন। ২৫ বছর ধরে তিনি একাই এই বাদাম বিক্রির পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল হলেই নিজ বাড়ি থেকে বাদাম ভর্তি খাঁচা ও হাতে লাঠি নিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করে তিনি চারজনের সংসার চালান। তার প্রতিদিনের রোজগার ২০০ টাকা থেকে ৫০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা দিয়ে তিনি সংসার খরচ, ওষুধ এবং ছেলের লেখাপড়ার খরচ মেটান। এছাড়া তিনি একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডও পেয়েছেন, যা তার জীবনযাত্রায় কিছুটা হলেও সহায়তা করে।

স্থানীয়রা জুয়েলের এই সংগ্রামী জীবনযাপনের প্রশংসা করে বলেন, জুয়েল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও ছোটবেলা থেকেই লাঠি নিয়ে একা চলাফেরা করতেন এবং কখনো কারো কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি। তিনি নিজের রোজগারে সংসার চালান এবং মায়ের দেখাশোনা করেন। সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী জাফর জুয়েলের এই সংগ্রামী জীবনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তার নামে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড রয়েছে এবং যেকোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে ইউনিয়ন পরিষদ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা দেখবে।