ঝড়, বৃষ্টি বা প্রখর রোদ উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে তিন বছর ধরে পড়াশোনা করা দক্ষিণ মেলাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অবশেষে স্বস্তির খবর এসেছে। এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারা পেল নতুন টিনশেড ক্লাসরুম। দৈনিক আমার দেশ-এ গত ৩ এপ্রিল প্রকাশিত একটি সচিত্র প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বিদ্যালয়ে এই নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
জানা যায়, ১৯৯৪ সালে সরকারিভাবে নির্মিত বিদ্যালয় ভবনটি সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ২০১৪ সালের শুরুর দিকে ভবনের দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে গত তিন বছর ধরে খোলা আকাশের নিচেই তাদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে হচ্ছিল। এতে তাদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটছিল এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল।
স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, এডিবির অর্থায়নে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে একটি এবং শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত তিন লাখ টাকা ব্যয়ে আরও একটি টিনশেড ক্লাসরুম নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই দুটি কক্ষে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে। নতুন শ্রেণিকক্ষ পেয়ে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দিত। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌরভ এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জয়ন্ত কুমার ও নন্দি রানী রায় তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে জানায় যে, দীর্ঘ কষ্টের পর তারা এখন একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিবির মাধ্যমে আরও একটি ক্লাসরুম নির্মাণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান দৈনিক আমার দেশ-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রতিবেদনটি দেখার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা এখন ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করছে। তিনি দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 




















