ভারত সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অনশন ভঙ্গ করার পর শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমালোচনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ ভিডিও বার্তা দিয়ে সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন এবং নিজেকে ‘সততার প্রমাণ’ দেওয়ার প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রশ্নফাঁস নিয়ে যন্তর মন্তরে চলা বিক্ষোভ-আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করেছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে একাধিক আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় ছিলেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে ২৬ দিন পর তিনি অনশন ভাঙেন। সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন। তবে, এরপরও তিনি সমালোচনার শিকার হচ্ছেন।
সমালোচকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কোনো রফা বা ‘চুক্তি’র ভিত্তিতে সোনম ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাত থেকে পানীয় নিয়ে অনশন ভঙ্গের কারণ নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এই সমস্ত সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোনম ওয়াংচুক সেখান থেকেই ২৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অনশন ভেঙেও সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে, এই কথা প্রকাশ করতে তার কষ্ট হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে তার কোনো চুক্তি হয়নি বলেও তিনি সাফ জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার এবং তাদের দাবি পূরণ হওয়াটাই তার মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
একই সঙ্গে, সোনম ওয়াংচুক সমালোচকদের দিকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘লাদাখের ঠান্ডা থেকে দিল্লির তপ্ত রোদে এসে বসে আমি অনশন করেছি। এত কিছু করার পরেও এবার কি আমাকে অন্য কারো থেকে চরিত্রের সনদপত্র নিতে হবে? আমার অনশন কি পবিত্র ছিল, সেটার প্রমাণ কি আমাকে দিতে হবে?’ সোনম আরও জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই অনেকে তাকে ফোন করে তার কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং কী কী চুক্তি হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত মানুষের মাথায় এই ধরনের ভাবনা আসে, তাদের আমি…’
রিপোর্টারের নাম 




















