গত ২০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে ঢাকার উত্তর বাড্ডায় এ এম জেড হাসপাতালের সামনে স্বৈরাচারবিরোধী এক মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মো. এমদাদুল। স্বজনদের অভিযোগ, হাসিনা সরকারের পুলিশ বাহিনী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এমদাদুল পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের মো. আবদুস সোবাহান ও হাসিনা বেগমের দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছিলেন। রিকশাচালক পিতার এই সন্তান এইচএসসি পাস করে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন।
পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে এমদাদুলের উচ্চ শিক্ষা লাভ সম্ভব হয়নি। সংসারের হাল ধরতে তিনি ঢাকায় একটি প্রাইভেটকার চালানোর চাকরি নেন। ঢাকায় ছাত্রদের কোটাবিরোধী আন্দোলন যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়, তখন এমদাদুল এই আন্দোলনে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ হন। সহযোদ্ধা বন্ধু সজীবের সঙ্গে তিনি আন্দোলনে অংশ নেন এবং পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
শহীদ এমদাদুলের পরিবার সরকারের কাছ থেকে মাসে বিশ হাজার টাকা ভাতা এবং ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত অর্থ পায়। এর একটি বড় অংশ এমদাদুলের বাবার চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এমদাদুলের বড় ভাই মো. হাসান বর্তমানে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন।
এমদাদুলের মা হাসিনা জানান, তাদের কোনো জমি বা বাড়ি নেই। সরকার যদি তাদের কিছু জমি দিত, তাহলে তারা সেখানে ঘর বানিয়ে বসবাস করতে পারতেন। ছেলের হত্যার বিচার সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা নিজে কোনো মামলা করেননি, তবে শুনেছেন ঢাকায় মামলা হয়েছে। মাঝে মাঝে ঢাকা থেকে তদন্তকারী লোক আসত। এমদাদুলের পরিবার তার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, অর্থাৎ ফাঁসি চায়।
রিপোর্টারের নাম 




















