ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

দলীয় বহিষ্কারে সংসদ সদস্য পদ: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও আইনি ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই ঘটনার আড়ালে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে: দল থেকে বহিষ্কৃত হলে কি একজন সংসদ সদস্য তার আসন হারাবেন?

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি যতটা মীমাংসিত বলে মনে হচ্ছে, ততটা সরল নয়। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদই এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই অনুচ্ছেদের ভাষা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি মূলত সংসদ সদস্যের নিজের কার্যকলাপের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত ব্যক্তি ‘যদি (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে।’ এখানে দল থেকে পদত্যাগ অথবা দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া (যার ব্যাখ্যায় দলীয় হুইপ অমান্য করা বা অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত থাকাও অন্তর্ভুক্ত) এই দুটি শর্তের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই অনুচ্ছেদে দল কর্তৃক কোনো সদস্যকে বহিষ্কারের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।

এটি এমন কোনো শূন্যতা নয় যা উদারভাবে ব্যাখ্যা করে নীরবে পূরণ করা যায়। ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হওয়ার পরও ৭০ অনুচ্ছেদটি সংসদ সদস্য নিজে কী করেন, তার ভিত্তিতেই নির্মিত হয়েছে। দল তাঁর সঙ্গে কী করে, সে বিষয়ে এখানে কিছুই বলা হয়নি। কোনো দল একজন সদস্যকে বহিষ্কার করলে পরিস্থিতিটি প্রায় তার বিপরীত প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়ায়, এবং শুধু সম্পর্কিত বলে মনে হওয়ার কারণে বিপরীত প্রতিচ্ছবিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই নিয়মের আওতায় পড়ে না।

সহজভাবে বললে, বহিষ্কার সম্পর্কে সংবিধান বা সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির কোথাও কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ৭০ অনুচ্ছেদটি এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে লেখা হয়নি। এই শূন্যতাই বাংলাদেশে এর আগে এ প্রশ্নকে ঘিরে বিতর্কগুলোর জন্ম দিয়েছিল। অষ্টম সংসদে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আবু হেনা স্পিকারের অনুমোদনে তাঁর আসন ধরে রেখেছিলেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তাঁর ক্ষেত্রে ৬৬ বা ৭০—কোনো অনুচ্ছেদই প্রযোজ্য নয়। তবে এই যুক্তিটি কখনো পরীক্ষিত হয়নি, কারণ নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে দ্রুত: নির্বাচন কমিশন

দলীয় বহিষ্কারে সংসদ সদস্য পদ: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও আইনি ব্যাখ্যা

আপডেট সময় : ০৮:২০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই ঘটনার আড়ালে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে: দল থেকে বহিষ্কৃত হলে কি একজন সংসদ সদস্য তার আসন হারাবেন?

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি যতটা মীমাংসিত বলে মনে হচ্ছে, ততটা সরল নয়। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদই এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই অনুচ্ছেদের ভাষা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি মূলত সংসদ সদস্যের নিজের কার্যকলাপের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত ব্যক্তি ‘যদি (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে।’ এখানে দল থেকে পদত্যাগ অথবা দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া (যার ব্যাখ্যায় দলীয় হুইপ অমান্য করা বা অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত থাকাও অন্তর্ভুক্ত) এই দুটি শর্তের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই অনুচ্ছেদে দল কর্তৃক কোনো সদস্যকে বহিষ্কারের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।

এটি এমন কোনো শূন্যতা নয় যা উদারভাবে ব্যাখ্যা করে নীরবে পূরণ করা যায়। ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হওয়ার পরও ৭০ অনুচ্ছেদটি সংসদ সদস্য নিজে কী করেন, তার ভিত্তিতেই নির্মিত হয়েছে। দল তাঁর সঙ্গে কী করে, সে বিষয়ে এখানে কিছুই বলা হয়নি। কোনো দল একজন সদস্যকে বহিষ্কার করলে পরিস্থিতিটি প্রায় তার বিপরীত প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়ায়, এবং শুধু সম্পর্কিত বলে মনে হওয়ার কারণে বিপরীত প্রতিচ্ছবিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই নিয়মের আওতায় পড়ে না।

সহজভাবে বললে, বহিষ্কার সম্পর্কে সংবিধান বা সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির কোথাও কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ৭০ অনুচ্ছেদটি এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে লেখা হয়নি। এই শূন্যতাই বাংলাদেশে এর আগে এ প্রশ্নকে ঘিরে বিতর্কগুলোর জন্ম দিয়েছিল। অষ্টম সংসদে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আবু হেনা স্পিকারের অনুমোদনে তাঁর আসন ধরে রেখেছিলেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তাঁর ক্ষেত্রে ৬৬ বা ৭০—কোনো অনুচ্ছেদই প্রযোজ্য নয়। তবে এই যুক্তিটি কখনো পরীক্ষিত হয়নি, কারণ নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।