ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

খন্দকের যুদ্ধে ইসলামের বিজয়ে নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)-এর ঐতিহাসিক রণকৌশল

ইসলামের ইতিহাসে খন্দকের যুদ্ধ বা আহজাবের যুদ্ধ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। হিজরি পঞ্চম সালে মক্কার কুরাইশ, গাতফান গোত্র এবং বনু নাজিরের ইহুদিরা সম্মিলিতভাবে মদিনা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। এই কঠিন সময়ে মদিনার অভ্যন্তরে বসবাসকারী বনু কুরাইজাও মুসলিমদের সঙ্গে করা চুক্তি ভঙ্গ করে শত্রুপক্ষের সঙ্গে হাত মেলায়। মদিনার একদিক অরক্ষিত থাকায় এবং বনু কুরাইজার কাছে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র মজুত থাকায় মুসলিম বাহিনীর সামনে এক ভয়াবহ বিপদ ঘনিয়ে আসে।

এমন এক সংকটময় মুহূর্তে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন গাতফান গোত্রের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)। তিনি গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, যা তার নিজের গোত্র বা মক্কার কুরাইশদের জানা ছিল না। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে শত্রুদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য একটি কৌশলী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অনুমতি চান। বিশ্বনবী (সা.) তাকে অনুমতি দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধ হলো কৌশলের নাম’ (সহিহ বুখারি)।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সবুজ সংকেত পেয়ে নুয়াইম (রা.) তার প্রখর বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে এক অভাবনীয় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি প্রথমে বনু কুরাইজার নেতাদের কাছে গিয়ে তাদের বোঝান যে, কুরাইশ ও গাতফান গোত্র যদি যুদ্ধে পরাজিত হয় তবে তারা নিজেদের এলাকায় ফিরে যাবে, কিন্তু বনু কুরাইজাকে মদিনায় একাই মুসলিমদের মোকাবিলা করতে হবে। তাই নিরাপত্তার জন্য তাদের উচিত কুরাইশ নেতাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে জিম্মি হিসেবে নিজেদের কাছে রাখা।

নুয়াইম (রা.)-এর এই সূক্ষ্ম ও দূরদর্শী পরামর্শ বনু কুরাইজার মনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং মিত্রশক্তির মধ্যে সন্দেহের বীজ বপন করে। মূলত তার এই একক প্রচেষ্টায় শত্রুপক্ষের জোট ভেঙে যায় এবং খন্দকের যুদ্ধে মুসলিমদের বিজয় ত্বরান্বিত হয়। ইতিহাসের পাতায় নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)-এর এই বীরত্বগাথা আজও এক অনন্য রণকৌশলের উদাহরণ হয়ে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী’: রাশেদা বেগম হিরা

খন্দকের যুদ্ধে ইসলামের বিজয়ে নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)-এর ঐতিহাসিক রণকৌশল

আপডেট সময় : ১২:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ইসলামের ইতিহাসে খন্দকের যুদ্ধ বা আহজাবের যুদ্ধ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। হিজরি পঞ্চম সালে মক্কার কুরাইশ, গাতফান গোত্র এবং বনু নাজিরের ইহুদিরা সম্মিলিতভাবে মদিনা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। এই কঠিন সময়ে মদিনার অভ্যন্তরে বসবাসকারী বনু কুরাইজাও মুসলিমদের সঙ্গে করা চুক্তি ভঙ্গ করে শত্রুপক্ষের সঙ্গে হাত মেলায়। মদিনার একদিক অরক্ষিত থাকায় এবং বনু কুরাইজার কাছে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র মজুত থাকায় মুসলিম বাহিনীর সামনে এক ভয়াবহ বিপদ ঘনিয়ে আসে।

এমন এক সংকটময় মুহূর্তে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন গাতফান গোত্রের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)। তিনি গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, যা তার নিজের গোত্র বা মক্কার কুরাইশদের জানা ছিল না। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে শত্রুদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য একটি কৌশলী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অনুমতি চান। বিশ্বনবী (সা.) তাকে অনুমতি দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধ হলো কৌশলের নাম’ (সহিহ বুখারি)।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সবুজ সংকেত পেয়ে নুয়াইম (রা.) তার প্রখর বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে এক অভাবনীয় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি প্রথমে বনু কুরাইজার নেতাদের কাছে গিয়ে তাদের বোঝান যে, কুরাইশ ও গাতফান গোত্র যদি যুদ্ধে পরাজিত হয় তবে তারা নিজেদের এলাকায় ফিরে যাবে, কিন্তু বনু কুরাইজাকে মদিনায় একাই মুসলিমদের মোকাবিলা করতে হবে। তাই নিরাপত্তার জন্য তাদের উচিত কুরাইশ নেতাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে জিম্মি হিসেবে নিজেদের কাছে রাখা।

নুয়াইম (রা.)-এর এই সূক্ষ্ম ও দূরদর্শী পরামর্শ বনু কুরাইজার মনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং মিত্রশক্তির মধ্যে সন্দেহের বীজ বপন করে। মূলত তার এই একক প্রচেষ্টায় শত্রুপক্ষের জোট ভেঙে যায় এবং খন্দকের যুদ্ধে মুসলিমদের বিজয় ত্বরান্বিত হয়। ইতিহাসের পাতায় নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)-এর এই বীরত্বগাথা আজও এক অনন্য রণকৌশলের উদাহরণ হয়ে আছে।