বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করার ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফার এথিক্স কমিটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর কথা বিবেচনা করছে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। ফিফার এই সিদ্ধান্তে তারা ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে।
জানা গেছে, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখার পর বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে বালোগানের বাদ পড়ার কথা ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার পর ফিফা নিয়মাবলীর একটি ধারা উল্লেখ করে ১২ মাসের জন্য তার সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। এর ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচে শুরুর একাদশেই খেলেন বালোগান, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এনএফএফ সভাপতি লিসে ক্লাভনেস বিবিসি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, এই বিষয়টি নিয়ে তাদের পরবর্তী বোর্ড সভায় পর্যালোচনা করা হবে এবং এথিক্স কমিটিতে আনুষ্ঠানিক নালিশ জানানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগেও ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র চলাকালীন ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার প্রদানের বিষয়ে এনএফএফ ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছিল। এনএফএফ প্রধান লিসে ক্লাভনেস বলেন, ‘গত বছর ক্রিসমাসের আগে ফিফার তথাকথিত শান্তি পুরস্কারের বিষয়ে আমরা এথিক্স কমিটিতে যে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলাম, তার সঙ্গে বালোগানের ঘটনাটি যুক্ত করা সমীচীন হবে।’
এদিকে, এই বিতর্কের জেরে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) তদন্তের মুখে পড়তে পারেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে আইওসির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইনফান্তিনো। অলিম্পিক সনদের অনুচ্ছেদ দুই অনুযায়ী, আইওসির কোনো সদস্য সরকার, সংস্থা বা অন্য কোনো পক্ষের কাছ থেকে এমন কোনো দায়িত্ব বা নির্দেশ গ্রহণ করতে পারবেন না, যা তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত বা ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে।
এ বিষয়ে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে আইওসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এথিক্স কমিশনে জমা পড়া যেকোনো অভিযোগ সম্পূর্ণ গোপনীয় রাখা হয়। তাই বাহ্যিক কোনো পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছে কি না, সে বিষয়ে আইওসি প্রকাশ্য কোনো মন্তব্য করবে না। কেবল নীতি কমিশন কোনো শাস্তি আরোপের সিদ্ধান্ত নিলেই সে তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 




















