পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নবীনদের মেসে ডেকে নিয়ে মানসিক হেনস্তা ও র্যাগিং করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ভয়াবহ এই ঘটনার জেরে মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক নবীন শিক্ষার্থী তীব্র মানসিক চাপে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। অভিযুক্তরা হলেন— সোহানুর, সাকিব, জাহিদ, তানিম, ইউনুস, মুশফিক ও সাইদুর।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে অভিযুক্ত জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (নবীন ব্যাচ) সকল ছাত্রকে বিকেলের দিকে, অর্থাৎ সাড়ে ৩টার মধ্যে পাবনা শহরের বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি সুনির্দিষ্ট মেসে উপস্থিত হওয়ার কড়া নির্দেশ দেন।
সিনিয়রদের নির্দেশে নবীন শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে ওই মেসে গিয়ে উপস্থিত হলে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের উক্ত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয়ে তাদের ভুল ধরতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা নবীনদের সাথে তীব্র উচ্চৈঃস্বরে কথা বলেন, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং চরম মানসিকভাবে হেনস্তা করতে শুরু করেন।
এই মানসিক নির্যাতনের একপর্যায়ে তীব্র মানসিক চাপের মুখোমুখি হয়ে মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের ওই নবীন শিক্ষার্থী চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি হঠাৎ প্রচুর ঘামতে থাকেন এবং তাঁর মারাত্মক প্যানিক অ্যাটাক (Panic Attack) হয়। ঘটনার প্রথমদিকে উপস্থিত সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে সাধারণ মনে করলেও, পরবর্তী সময়ে তুহিনের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি হাতছাড়া হয়ে গেলে রাত ৮টার দিকে তাঁকে দ্রত পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক অসুস্থতার নেপথ্যে র্যাগিংয়ের ভয়াবহ কথা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও প্রশাসনকে খবর দেন।
র্যাগিং ও চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষকবৃন্দ দ্রুত পাবনা সদর হাসপাতালে উপস্থিত হন। সেখানে ওই নবীন শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় রাত ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একাধিক ভুক্তভোগী নবীন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, সিনিয়ররা তাঁদের মেসে ডেকে নিয়ে নানা বিষয়ে অহেতুক জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। তবে শারীরিকভাবে কাউকেই আঘাত বা নির্যাতন করা হয়নি। অসুস্থ মুশফিকুর রহমান তুহিন আগে থেকেই কিছুটা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন, যার কারণে হঠাৎ এই প্রচণ্ড মানসিক চাপের মুখে পড়ে তিনি দ্রুত সংজ্ঞাহীন ও চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আনীত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ওই সিনিয়র ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাউকেই পাওয়া যায়নি এবং তাঁরা কেউ ফোন ধরেননি।
পুরো ঘটনা ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে পাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান জানান, তাঁরা হাসপাতালে সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিকভাবে নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর র্যাগিংয়ের ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। এ বিষয়ে আজ সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী কঠোর ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























