ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

জমি দখল, ঘুষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের নিয়ে অনৈতিক কাজের গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

সাতক্ষীরা-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাচেষ্টা, বিপুল দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান। বর্তমানে নিজের ও পরিবারের জীবনের চরম নিরাপত্তা চেয়ে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত দাবিতে গত সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন তিনি। জমা দেওয়া উক্ত আবেদনে ওবায়দুর নিজেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের যাবতীয় দুর্নীতির নিকটতম প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দাবি করেছেন।

জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে সাবেক চালক ওবায়দুর রহমান বিস্তারিত জানান যে, গত ১৪ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার উত্তর কালশী এলাকায় তিনি হঠাৎ নির্মম হামলার শিকার হন। কালশীর আলীনগরের ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে অবস্থানকালে পুলিশের সাবেক এসআই আমিন এবং মাসুম বিল্লাহ ও মোক্তাসিম বিল্লাহ নামের দুই ব্যক্তি লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে সুনির্দিষ্টভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালায়। পরবর্তীতে ঘটনা টের পেয়ে তাঁর মা ও ছোট বোনের সাহসী সহায়তায় তিনি সেখান থেকে উদ্ধার পান এবং দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

চালক ওবায়দুরের সুস্পষ্ট দাবি, তাঁর ওপর চালানো এই বর্বরোচিত হামলার নেপথ্যে মূল নির্দেশদাতা হিসেবে কাজ করেছেন স্বয়ং সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন যাবত উক্ত এমপির বিশ্বস্ত গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে তাঁর বহুবিধ আর্থিক দুর্নীতি, জোরপূর্বক জমি দখল, অবৈধ বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ এবং কোটি কোটি টাকার ঘুষ গ্রহণের মতো গোপন কর্মকাণ্ডের ভেতরের তথ্য সরাসরি জানেন। লিখিত আবেদনে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে আরও উল্লেখ করেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম একাধিক স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের অনৈতিক কাজে লিপ্ত রেখেছিলেন এবং সিসিটিভি ফুটেজেও এর সুস্পষ্ট প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে। সাবেক চালক হিসেবে তাঁর কাছে থাকা এসব গোপনীয় ও স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার মারাত্মক ভয়েই তাঁকে মূলত প্রাণনাশের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে চরম আতঙ্কে আত্মগোপনে থাকা ওবায়দুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলাকারী ব্যক্তিবর্গ তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে প্রতিনিয়ত নানারূপে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। জীবনের চরম ঝুঁকিতে থাকার কথা জানিয়ে তিনি ভয়াবহ এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং নিজের ও পরিবারের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ বিশেষভাবে কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কিছু বিতর্কিত ভিডিও ফুটেজ ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পর পুরো দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও অফিশিয়াল বিবৃতি প্রদান করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ভিডিওগুলো নিয়ে সামগ্রিক রাজনৈতিক মহলে পাল্টাপাল্টি নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের আবহ তৈরি হওয়ার মধ্যেই তাঁরই সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীর এই আনুষ্ঠানিক ও লিখিত অভিযোগ গোটা ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মেটা এআই চ্যাটে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলে অভিভাবক ও জরুরি সেবার কাছে বার্তা যাবে

জমি দখল, ঘুষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের নিয়ে অনৈতিক কাজের গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:২২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাচেষ্টা, বিপুল দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান। বর্তমানে নিজের ও পরিবারের জীবনের চরম নিরাপত্তা চেয়ে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত দাবিতে গত সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন তিনি। জমা দেওয়া উক্ত আবেদনে ওবায়দুর নিজেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের যাবতীয় দুর্নীতির নিকটতম প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দাবি করেছেন।

জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে সাবেক চালক ওবায়দুর রহমান বিস্তারিত জানান যে, গত ১৪ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার উত্তর কালশী এলাকায় তিনি হঠাৎ নির্মম হামলার শিকার হন। কালশীর আলীনগরের ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে অবস্থানকালে পুলিশের সাবেক এসআই আমিন এবং মাসুম বিল্লাহ ও মোক্তাসিম বিল্লাহ নামের দুই ব্যক্তি লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে সুনির্দিষ্টভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালায়। পরবর্তীতে ঘটনা টের পেয়ে তাঁর মা ও ছোট বোনের সাহসী সহায়তায় তিনি সেখান থেকে উদ্ধার পান এবং দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

চালক ওবায়দুরের সুস্পষ্ট দাবি, তাঁর ওপর চালানো এই বর্বরোচিত হামলার নেপথ্যে মূল নির্দেশদাতা হিসেবে কাজ করেছেন স্বয়ং সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন যাবত উক্ত এমপির বিশ্বস্ত গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে তাঁর বহুবিধ আর্থিক দুর্নীতি, জোরপূর্বক জমি দখল, অবৈধ বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ এবং কোটি কোটি টাকার ঘুষ গ্রহণের মতো গোপন কর্মকাণ্ডের ভেতরের তথ্য সরাসরি জানেন। লিখিত আবেদনে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে আরও উল্লেখ করেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম একাধিক স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের অনৈতিক কাজে লিপ্ত রেখেছিলেন এবং সিসিটিভি ফুটেজেও এর সুস্পষ্ট প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে। সাবেক চালক হিসেবে তাঁর কাছে থাকা এসব গোপনীয় ও স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার মারাত্মক ভয়েই তাঁকে মূলত প্রাণনাশের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে চরম আতঙ্কে আত্মগোপনে থাকা ওবায়দুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলাকারী ব্যক্তিবর্গ তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে প্রতিনিয়ত নানারূপে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। জীবনের চরম ঝুঁকিতে থাকার কথা জানিয়ে তিনি ভয়াবহ এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং নিজের ও পরিবারের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ বিশেষভাবে কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কিছু বিতর্কিত ভিডিও ফুটেজ ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পর পুরো দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও অফিশিয়াল বিবৃতি প্রদান করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ভিডিওগুলো নিয়ে সামগ্রিক রাজনৈতিক মহলে পাল্টাপাল্টি নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের আবহ তৈরি হওয়ার মধ্যেই তাঁরই সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীর এই আনুষ্ঠানিক ও লিখিত অভিযোগ গোটা ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করল।