ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

জ্বালানি সংকট ও ঋণ খরচে ৬ বছরে প্রথমবার শিল্প উৎপাদন হ্রাস

তীব্র জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে দুর্বল রপ্তানি চাহিদা এবং উচ্চ ব্যাংক ঋণের সুদের চাপের কারণে বর্তমানে চরমভাবে ধুঁকছে বাংলাদেশের সামগ্রিক শিল্প খাত। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবে সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে (তৃতীয় প্রান্তিক) দেশের প্রধান প্রধান কারখানাগুলোতে সার্বিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

বিগত ২০২০ সালের বিশ্বব্যাপী করোনাকালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশে শিল্প উৎপাদনে এমন বড় ধরনের পতন বা সংকোচন এই প্রথম দেখা গেল। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’ (বিবিএস) সোমবার প্রকাশিত তাদের সাম্প্রতিক সাময়িক উপাত্তে জানায়, ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশের শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ কমে গেছে। অথচ ঠিক এক বছর আগে একই সময়ে (জানুয়ারি-মার্চ) এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়, পূর্বে ২০২০ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশব্যাপী চলা কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় দেশের সার্বিক উৎপাদন ১৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই আশঙ্কাজনক সংকোচনের আগ পর্যন্ত পরবর্তী প্রতিটি প্রান্তিকেই শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির ধারা সর্বদা ইতিবাচক ছিল। দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা সাম্প্রতিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত পতনের পেছনে দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেছেন, যা দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের নতুন করে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে ভীষণভাবে নিরুৎসাহিত করেছে।

পুরো অর্থনৈতিক চিত্র নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘শিল্প খাতের এই সংকোচন কোনো সাময়িক পতন বা সাধারণ বিষয় নয়; বরং এটি আমাদের জাতীয় অর্থনীতির গভীরে প্রোথিত গভীর কাঠামোগত দুর্বলতাকেই প্রতিনিয়ত প্রতিফলিত করছে। শিল্পের এই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির হার একটি স্পষ্ট সতর্ক সংকেত যে সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার কারণেই আমাদের স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

অন্যদিকে, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন, ম্যানুফ্যাকচারিং বা মূল উৎপাদন খাতের উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি মূলত বিশ্ববাজারে আমাদের তৈরি পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মূল শিল্প খাতের এই বড় ধরনের মন্দার প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে সামগ্রিক জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ২ দশমিক ২২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের ঠিক একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

সরকারি সংস্থা বিবিএসের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, শুধু শিল্প খাতেই নয়, দেশের কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিও আগের বছরের ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ থেকে দ্রুত কমে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে সেবা খাত—যেটি আমাদের মোট জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখে—সেটির প্রবৃদ্ধিও ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে দ্রুত সংকুচিত হয়ে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি মূলত আমাদের পুরো জাতীয় অর্থনীতির সর্বব্যাপী দুর্বল ও নাজুক চিত্রকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে।

সামগ্রিক সংকট মোকাবিলায় অধ্যাপক মো. দ্বীন ইসলাম মনে করেন, সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ও বাজেট সুবিধা সাময়িকভাবে উদ্যোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি বা ভরসা দিতে পারে। তবে এর প্রকৃত কার্যকারিতা পুরোপুরি নির্ভর করবে এসব উদ্যোগের স্বচ্ছ ও যথাযথ বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত পরিপূরক সংস্কারের ওপর। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘কেবল ভর্তুকিযুক্ত ঋণ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। কারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকলে উৎপাদনকারীরা কোনোভাবেই তাদের উৎপাদন বাড়াতে পারবেন না। আসল চ্যালেঞ্জ হলো আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং একটি টেকসই ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

সহযোগী গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ একটি ‘ধীরে চলো’ বা পর্যবেক্ষণমূলক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে সাধারণ ব্যবসায়ীদের নতুন বিনিয়োগের যেকোনো সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে বাধ্য করে। বিনিয়োগকারীরা যখন সরকারের নীতিমালার ধারাবাহিকতার বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন না, তখন স্বাভাবিকভাবেই বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগ কমে যায় এবং প্রবৃদ্ধির জাতীয় পরিসংখ্যানে তার নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটে।’

এর আগে অবশ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৬ অর্থবছরের জন্য দেশের সাময়িক মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল, যা তার আগের অর্থবছরের অর্জিত ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল।

তবে আন্তর্জাতিক বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিপথ নিয়ে কিছুটা মিশ্র পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশ্বখ্যাত বিশ্বব্যাংক তাদের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দীর্ঘস্থায়ী সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হওয়ার আভাস দিয়েছে। অন্য দিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দেশের শিল্প খাতের চলমান মন্থর গতি এবং অব্যাহত বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার কারণে তাদের পূর্বের পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

নাফ নদী ও সাগরের অব্যাহত ভাঙনে ভিটেমাটি হারা শাহপরীর দ্বীপের মানুষ

জ্বালানি সংকট ও ঋণ খরচে ৬ বছরে প্রথমবার শিল্প উৎপাদন হ্রাস

আপডেট সময় : ১১:৫৯:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

তীব্র জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে দুর্বল রপ্তানি চাহিদা এবং উচ্চ ব্যাংক ঋণের সুদের চাপের কারণে বর্তমানে চরমভাবে ধুঁকছে বাংলাদেশের সামগ্রিক শিল্প খাত। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবে সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে (তৃতীয় প্রান্তিক) দেশের প্রধান প্রধান কারখানাগুলোতে সার্বিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

বিগত ২০২০ সালের বিশ্বব্যাপী করোনাকালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশে শিল্প উৎপাদনে এমন বড় ধরনের পতন বা সংকোচন এই প্রথম দেখা গেল। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’ (বিবিএস) সোমবার প্রকাশিত তাদের সাম্প্রতিক সাময়িক উপাত্তে জানায়, ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশের শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ কমে গেছে। অথচ ঠিক এক বছর আগে একই সময়ে (জানুয়ারি-মার্চ) এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়, পূর্বে ২০২০ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশব্যাপী চলা কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় দেশের সার্বিক উৎপাদন ১৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই আশঙ্কাজনক সংকোচনের আগ পর্যন্ত পরবর্তী প্রতিটি প্রান্তিকেই শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির ধারা সর্বদা ইতিবাচক ছিল। দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা সাম্প্রতিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত পতনের পেছনে দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেছেন, যা দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের নতুন করে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে ভীষণভাবে নিরুৎসাহিত করেছে।

পুরো অর্থনৈতিক চিত্র নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘শিল্প খাতের এই সংকোচন কোনো সাময়িক পতন বা সাধারণ বিষয় নয়; বরং এটি আমাদের জাতীয় অর্থনীতির গভীরে প্রোথিত গভীর কাঠামোগত দুর্বলতাকেই প্রতিনিয়ত প্রতিফলিত করছে। শিল্পের এই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির হার একটি স্পষ্ট সতর্ক সংকেত যে সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার কারণেই আমাদের স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

অন্যদিকে, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন, ম্যানুফ্যাকচারিং বা মূল উৎপাদন খাতের উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি মূলত বিশ্ববাজারে আমাদের তৈরি পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মূল শিল্প খাতের এই বড় ধরনের মন্দার প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে সামগ্রিক জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ২ দশমিক ২২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের ঠিক একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

সরকারি সংস্থা বিবিএসের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, শুধু শিল্প খাতেই নয়, দেশের কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিও আগের বছরের ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ থেকে দ্রুত কমে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে সেবা খাত—যেটি আমাদের মোট জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখে—সেটির প্রবৃদ্ধিও ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে দ্রুত সংকুচিত হয়ে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি মূলত আমাদের পুরো জাতীয় অর্থনীতির সর্বব্যাপী দুর্বল ও নাজুক চিত্রকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে।

সামগ্রিক সংকট মোকাবিলায় অধ্যাপক মো. দ্বীন ইসলাম মনে করেন, সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ও বাজেট সুবিধা সাময়িকভাবে উদ্যোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি বা ভরসা দিতে পারে। তবে এর প্রকৃত কার্যকারিতা পুরোপুরি নির্ভর করবে এসব উদ্যোগের স্বচ্ছ ও যথাযথ বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত পরিপূরক সংস্কারের ওপর। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘কেবল ভর্তুকিযুক্ত ঋণ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। কারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকলে উৎপাদনকারীরা কোনোভাবেই তাদের উৎপাদন বাড়াতে পারবেন না। আসল চ্যালেঞ্জ হলো আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং একটি টেকসই ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

সহযোগী গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ একটি ‘ধীরে চলো’ বা পর্যবেক্ষণমূলক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে সাধারণ ব্যবসায়ীদের নতুন বিনিয়োগের যেকোনো সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে বাধ্য করে। বিনিয়োগকারীরা যখন সরকারের নীতিমালার ধারাবাহিকতার বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন না, তখন স্বাভাবিকভাবেই বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগ কমে যায় এবং প্রবৃদ্ধির জাতীয় পরিসংখ্যানে তার নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটে।’

এর আগে অবশ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৬ অর্থবছরের জন্য দেশের সাময়িক মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল, যা তার আগের অর্থবছরের অর্জিত ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল।

তবে আন্তর্জাতিক বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিপথ নিয়ে কিছুটা মিশ্র পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশ্বখ্যাত বিশ্বব্যাংক তাদের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দীর্ঘস্থায়ী সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হওয়ার আভাস দিয়েছে। অন্য দিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দেশের শিল্প খাতের চলমান মন্থর গতি এবং অব্যাহত বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার কারণে তাদের পূর্বের পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ করেছে।