কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে চীন এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। গত শুক্রবার চীনের সাংহাই শহরে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন’ (ডব্লিউএআইসি) নামের এই আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি এআই খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেন যে, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর যেন কোনো একটি দেশের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই মন্তব্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলা, কারণ প্রযুক্তি ও এআই খাতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বর্তমানে তীব্র। উভয় দেশই মনে করে, এ খাতে প্রতিপক্ষের যেকোনো অগ্রগতি অন্য পক্ষকে আটকে দেওয়ার একটি সচেতন প্রচেষ্টা।
সম্মেলনের প্রথম দিনে চীন এমন কিছু অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম। চীনের তৈরি এআই মডেলগুলো বিশ্বজুড়ে ক্রমশ গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে এবং এই প্রেক্ষাপটে বেইজিং নিজেকে নতুন বৈশ্বিক এআই ব্যবস্থার নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তারা দ্রুত বিকাশমান এই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বদ্ধপরিকর।
শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগের দিন গত বৃহস্পতিবার ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা’ (ডব্লিউএআইসিও) গঠনের ঘোষণা দেয় চীন। সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত এই সংস্থার ২৯টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষর করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর এবার নবমবারের মতো বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন (ডব্লিউএআইসি) অনুষ্ঠিত হলো। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘এআই পার্টনারশিপ ফর আ ব্রাইটার ফিউচার’ বা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে এআই অংশীদারত্ব।
ওপেন-সোর্স এআই যে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ এনে দিয়েছে, তা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে শি জিনপিং বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চীন ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে, যাতে ‘নতুন ধরনের ঐতিহাসিক বৈষম্য’ তৈরি না হয়। পাশাপাশি তিনি আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার দেশগুলোর কথাও উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























