বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আবেগাপ্লুত হয়ে তার খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের দলের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু প্রতিভা নয়, বরং ঐক্য, আত্মত্যাগ এবং মানবিক মূল্যবোধ। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “আগে মানুষ অবাক হতো, ফুটবলাররা প্রতিভাবান হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষও হতে পারে এটা ভেবে। আমাদের দলটাই সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ। কারণ এখানে এমন মানুষ আছে, যারা একে অপরকে সাহায্য করে এবং মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়।” ৬৫ বছর বয়সী এই কোচের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন, কারণ তিনি এর আগে ২০২৪ সালে স্পেনকে ইউরো চ্যাম্পিয়নও করিয়েছেন।
এই সাফল্যের পেছনে দলীয় সংস্কৃতিকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “এই খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুতি, সংহতি এবং প্রতিভা অসাধারণ। তারা কঠিন কাজকেও সহজ মনে করায়। আমি এমন একটি ড্রেসিংরুম দেখি, যেখানে সবাই সুখী। আর দেখি, পুরো একটি দেশ আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।”
ফাইনালে স্পেনের আধিপত্য থাকলেও গোল পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে ম্যাচ জমিয়ে রাখেন। এই প্রসঙ্গে স্প্যানিশ কোচ বলেন, “মার্তিনেজ অসাধারণ খেলেছে। সে ম্যাচটিকে অনেক দীর্ঘ করেছে। কিন্তু আমার খেলোয়াড়রা ধৈর্য হারায়নি। আমরা বিশ্বাস রেখেছিলাম, সুযোগ আসবে, আর সেটাই হয়েছে।”
স্পেনের জয়ের নায়ক ফেরান তোরেস অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন। এই গোলের মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নেয় লা রোহা। এই শিরোপার পাশাপাশি দে লা ফুয়েন্তের দল ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিশ্বকাপ জিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও দৃঢ় করল। একই সঙ্গে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাদের অপরাজিত থাকার ধারাও ৩৮ ম্যাচে পৌঁছেছে, যা ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার যেকোনো জাতীয় দলের জন্য একটি নতুন রেকর্ড।
রিপোর্টারের নাম 

























