ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই লিওনেল মেসি বা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের দাপট। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আসরে এর চেয়েও বড় চমক ছিল কিছু তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারের উত্থান, যাদের নাম টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে প্রায় অচেনাই ছিল। মাঠের অসাধারণ নৈপুণ্যে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এমন সাত প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের গল্প নিয়েই এই বিশেষ আয়োজন।
ভোজিনহা (কেপ ভার্দে) – ৪০ বছর বয়সে রূপকথার জন্ম: মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এর পেছনের মূল কারিগর ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। গ্রুপ পর্বে তিনি স্পেন ও উরুগুয়ের মতো বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডদের রুখে দিয়েছেন। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেও লড়েছেন কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে। বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামে মাত্র ১৫ হাজার অনুসারী থাকা এই গোলরক্ষকের এখন অনুসারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি!
হুলিয়ান কিনোনিয়েস (মেক্সিকো) – সমালোচনার মোক্ষম জবাব: কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড যখন সৌদি লিগ থেকে মেক্সিকো দলে সুযোগ পান, তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু কিনোনিয়েস মাঠেই তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী গোলটি আসে তার পা থেকেই, ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে। এরপর তিনি চেক প্রজাতন্ত্র ও ইকুয়েডরের বিরুদ্ধেও গোল করেন এবং শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও গোল করে একাই চার গোল করার মাধ্যমে মেক্সিকোর হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন।
ইসমায়েল সাইবারি (মরক্কো) – মরক্কোর নতুন গতির সঞ্চার: একসময় যার স্বাভাবিকভাবে হাঁটা নিয়েও সন্দেহ ছিল, সেই সাইবারি এবার মরক্কোর রূপকথার অন্যতম নায়ক। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ৭১ সেকেন্ডে গোল করে তিনি মরক্কোর ইতিহাসে দ্রুততম বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড গড়েন। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করা এই উইঙ্গার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ ষোলোর টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টি শটটি নেন। ডাচ লিগের গত মৌসুমের সেরা এই ফুটবলারকে বিশ্বকাপ চলাকালীনই দলে ভিড়িয়েছে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ।
ইয়োহান মানজাম্বি (সুইজারল্যান্ড) – সুইসদের তরুণ তুর্কি: কঙ্গো ও অ্যাঙ্গোলান বংশোদ্ভূত ২০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার গত বছরই সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলে অভিষেক করেন। বসনিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র ১৯ মিনিটে তিনি দুটি গোল করে নিজের আগমন বার্তা জানান দেন।
রিপোর্টারের নাম 























