ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বুড়িগঙ্গায় নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০০-৭০০ টাকা চাঁদা আদায়, চরম অসন্তোষ

ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে প্রতিবার পারাপারে ৫০ টাকা ভাড়ার মধ্যে ২০ টাকা চাঁদা হিসেবে আদায় করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের ফলে মাঝিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘাট ইজারাদার সুমন ভূঁইয়া ও তার লোকজন প্রতিদিন একজন মাঝির কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল রোববার বিআইডব্লিউটিএ অফিস এবং ওয়াইজঘাট তিন ফেরি এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এই তথ্য উঠে আসে। ওয়াইজঘাট থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট পর্যন্ত চলাচলকারী নৌকার মাঝিরা এই অভিযোগ নিশ্চিত করেছেন। তারা অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ জানাতে বিআইডব্লিউটিএ অফিসে এসেছিলেন। বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার মোবারক হোসেন মজুমদার বিষয়টি সমাধানের জন্য সুমন ভূঁইয়ার প্রতিনিধি জাকির হোসেনকে অফিসে তলব করলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

ওয়াইজঘাট তিন ফেরি থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট পর্যন্ত যাত্রী পারাপারকারী নৌকার মাঝি আলম হোসেন ও সোহেল জানান, তারা প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ১০ টাকা ভাড়া পান। পাঁচজন যাত্রী হলেই তারা নৌকা ছেড়ে দেন, যা থেকে মোট আয় হয় ৫০ টাকা। এই ৫০ টাকা থেকে তাদের ২০ টাকা চাঁদা দিতে হয় ঘাট ইজারাদার ও সদরঘাট শ্রমিক দলের সভাপতি সুমন ভূঁইয়া ও তার লোকজনকে। যতবার তারা যাত্রী নিয়ে ঘাটে আসেন, ততবারই এই চাঁদা দিতে হয়। ফলে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ বার নৌকা চালালে তাদের ৫০০-৬০০ টাকা চাঁদা বাবদ চলে যায়।

মাঝিদের অভিযোগ, এই চাঁদা দেওয়ার পর তেল ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিলে তাদের কিছুই থাকে না। ওয়াইজঘাটের তিন ফেরি এলাকায় গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এই ঘাট থেকে প্রায় দুই শতাধিক মাঝি কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট ও আগানগরের আলম মার্কেটে যাত্রী পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লিতে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর: নিট বিতর্ক ও কৃষকদের আন্দোলনে উত্তপ্ত রাজধানী

বুড়িগঙ্গায় নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০০-৭০০ টাকা চাঁদা আদায়, চরম অসন্তোষ

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে প্রতিবার পারাপারে ৫০ টাকা ভাড়ার মধ্যে ২০ টাকা চাঁদা হিসেবে আদায় করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের ফলে মাঝিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘাট ইজারাদার সুমন ভূঁইয়া ও তার লোকজন প্রতিদিন একজন মাঝির কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল রোববার বিআইডব্লিউটিএ অফিস এবং ওয়াইজঘাট তিন ফেরি এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এই তথ্য উঠে আসে। ওয়াইজঘাট থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট পর্যন্ত চলাচলকারী নৌকার মাঝিরা এই অভিযোগ নিশ্চিত করেছেন। তারা অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ জানাতে বিআইডব্লিউটিএ অফিসে এসেছিলেন। বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার মোবারক হোসেন মজুমদার বিষয়টি সমাধানের জন্য সুমন ভূঁইয়ার প্রতিনিধি জাকির হোসেনকে অফিসে তলব করলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

ওয়াইজঘাট তিন ফেরি থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট পর্যন্ত যাত্রী পারাপারকারী নৌকার মাঝি আলম হোসেন ও সোহেল জানান, তারা প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ১০ টাকা ভাড়া পান। পাঁচজন যাত্রী হলেই তারা নৌকা ছেড়ে দেন, যা থেকে মোট আয় হয় ৫০ টাকা। এই ৫০ টাকা থেকে তাদের ২০ টাকা চাঁদা দিতে হয় ঘাট ইজারাদার ও সদরঘাট শ্রমিক দলের সভাপতি সুমন ভূঁইয়া ও তার লোকজনকে। যতবার তারা যাত্রী নিয়ে ঘাটে আসেন, ততবারই এই চাঁদা দিতে হয়। ফলে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ বার নৌকা চালালে তাদের ৫০০-৬০০ টাকা চাঁদা বাবদ চলে যায়।

মাঝিদের অভিযোগ, এই চাঁদা দেওয়ার পর তেল ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিলে তাদের কিছুই থাকে না। ওয়াইজঘাটের তিন ফেরি এলাকায় গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এই ঘাট থেকে প্রায় দুই শতাধিক মাঝি কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট ও আগানগরের আলম মার্কেটে যাত্রী পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।