ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার যদি সংবিধান সংস্কারের নামে প্রহসন বন্ধ করে দ্রুত গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করে, তবে ওলামা অ্যালায়েন্সসহ জুলাই বিপ্লবের সকল অংশীজন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর রাজপথের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, আন্দোলন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, তবে সরকার চাইলে এখনো সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

সোমবার রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুব্বা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই বিপ্লবের চেতনা কেউ বিক্রি করে রাজনীতি করছে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল—রাষ্ট্র সংস্কার, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা—সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার যদি এটিকে ‘জুলাই চেতনা বিক্রি’ বলে, তবে তা তাদের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা; কিন্তু জনগণ বাস্তবতা জানে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুফল বর্তমান সরকার পেয়েছে। বিপ্লবের কারণেই তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। অথচ ক্ষমতায় এসে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তারা ব্যর্থ হচ্ছে।

জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আন্দোলনের বিভিন্ন অংশীজনের অবদান মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ থেকে ২০ জুলাই যখন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনে নতুন গতি এনে দিয়েছিল। ২০১৩ সালের আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্রসমাজের বৃহত্তর ঐক্য তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের যেকোনো জাতীয় সংকটে এই ঐক্য বজায় থাকবে এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। ওলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ওলামাদের ভূমিকা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গিবাদ’ তকমা দিয়ে দমন করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ায় অনলাইন প্রতারণার ভয়াবহ বিস্তার: এক বছরে ক্ষতি ১১৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার যদি সংবিধান সংস্কারের নামে প্রহসন বন্ধ করে দ্রুত গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করে, তবে ওলামা অ্যালায়েন্সসহ জুলাই বিপ্লবের সকল অংশীজন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর রাজপথের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, আন্দোলন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, তবে সরকার চাইলে এখনো সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

সোমবার রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুব্বা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই বিপ্লবের চেতনা কেউ বিক্রি করে রাজনীতি করছে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল—রাষ্ট্র সংস্কার, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা—সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার যদি এটিকে ‘জুলাই চেতনা বিক্রি’ বলে, তবে তা তাদের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা; কিন্তু জনগণ বাস্তবতা জানে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুফল বর্তমান সরকার পেয়েছে। বিপ্লবের কারণেই তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। অথচ ক্ষমতায় এসে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তারা ব্যর্থ হচ্ছে।

জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আন্দোলনের বিভিন্ন অংশীজনের অবদান মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ থেকে ২০ জুলাই যখন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনে নতুন গতি এনে দিয়েছিল। ২০১৩ সালের আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্রসমাজের বৃহত্তর ঐক্য তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের যেকোনো জাতীয় সংকটে এই ঐক্য বজায় থাকবে এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। ওলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ওলামাদের ভূমিকা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গিবাদ’ তকমা দিয়ে দমন করা হয়েছে।