ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

প্রত্যর্পণের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেবে ভারত?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে
ChatGPT said:

বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে নোট ভারবাল (আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা) পাঠিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাঁচ দিন পর এ অনুরোধ পাঠানো হয়। অভিযোগ ছিল গত বছরের জুলাই আগস্টের শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনে নির্দেশনা দিয়ে তারা প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

রায় ঘোষণার পরই অন্তর্বর্তী সরকার দিল্লির কাছে দুইজনকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী এটি ভারতের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া অমিত্রসুলভ আচরণ হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই বিবৃতি দিয়ে আসছেন। গত এক বছর ধরে তার প্রত্যর্পণ দাবি তুললেও ভারত আগের অনুরোধগুলোর জবাব দেয়নি। প্রথম নোট ভারবাল গ্রহণের বিষয়টি ভারত নিশ্চিত করলেও দ্বিতীয় অনুরোধে কোনো প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইসিটির রায়ের পর ভারত শুধু জানিয়েছিল তারা রায়টি লক্ষ্য করেছে এবং বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে থাকবে, তবে প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে দিল্লি এখনই কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেবে না। তাদের মতে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার অস্থায়ী ও সীমিত ম্যান্ডেট নিয়ে চলছে, তাই একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভারত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবস্থান নেবে।

ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিরোধিতা প্রবল এবং রায়ের পর তা আরও জোরালো হয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতা, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে আশ্রয় প্রদান এবং তার শাসনামলে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এজন্য দিল্লির কাছে তিনি ঘনিষ্ঠ মিত্র, ফলে তাকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি পাঠানো ভারতের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল।

২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও ভারত চাইলে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ ধারা ব্যবহার করে প্রত্যর্পণ থেকে বিরত থাকতে পারে। যদিও খুন বা হত্যার অভিযোগ এতে পড়ে না, শেখ হাসিনার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ কঠিন হতে পারে এবং ভারত বিচার প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। এমনকি ভারত ইতিবাচক সাড়া দিলেও আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে, যেখানে শেখ হাসিনা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।

বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশের নির্বাচন সামনে রেখে ভারত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবে। অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ বড় হওয়ায় দিল্লি ধীরে ও নীরবভাবে যোগাযোগ রেখেই এগোতে চাইবে। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় ভারতবিরোধী বক্তব্য সামনে আসতে পারে, যা দুই দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল ঢাকা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

প্রত্যর্পণের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেবে ভারত?

আপডেট সময় : ১১:২৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
ChatGPT said:

বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে নোট ভারবাল (আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা) পাঠিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাঁচ দিন পর এ অনুরোধ পাঠানো হয়। অভিযোগ ছিল গত বছরের জুলাই আগস্টের শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনে নির্দেশনা দিয়ে তারা প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

রায় ঘোষণার পরই অন্তর্বর্তী সরকার দিল্লির কাছে দুইজনকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী এটি ভারতের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া অমিত্রসুলভ আচরণ হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই বিবৃতি দিয়ে আসছেন। গত এক বছর ধরে তার প্রত্যর্পণ দাবি তুললেও ভারত আগের অনুরোধগুলোর জবাব দেয়নি। প্রথম নোট ভারবাল গ্রহণের বিষয়টি ভারত নিশ্চিত করলেও দ্বিতীয় অনুরোধে কোনো প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইসিটির রায়ের পর ভারত শুধু জানিয়েছিল তারা রায়টি লক্ষ্য করেছে এবং বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে থাকবে, তবে প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে দিল্লি এখনই কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেবে না। তাদের মতে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার অস্থায়ী ও সীমিত ম্যান্ডেট নিয়ে চলছে, তাই একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভারত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবস্থান নেবে।

ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিরোধিতা প্রবল এবং রায়ের পর তা আরও জোরালো হয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতা, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে আশ্রয় প্রদান এবং তার শাসনামলে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এজন্য দিল্লির কাছে তিনি ঘনিষ্ঠ মিত্র, ফলে তাকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি পাঠানো ভারতের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল।

২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও ভারত চাইলে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ ধারা ব্যবহার করে প্রত্যর্পণ থেকে বিরত থাকতে পারে। যদিও খুন বা হত্যার অভিযোগ এতে পড়ে না, শেখ হাসিনার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ কঠিন হতে পারে এবং ভারত বিচার প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। এমনকি ভারত ইতিবাচক সাড়া দিলেও আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে, যেখানে শেখ হাসিনা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।

বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশের নির্বাচন সামনে রেখে ভারত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবে। অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ বড় হওয়ায় দিল্লি ধীরে ও নীরবভাবে যোগাযোগ রেখেই এগোতে চাইবে। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় ভারতবিরোধী বক্তব্য সামনে আসতে পারে, যা দুই দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করতে পারে।