ন্যায়ের-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সকল স্তরের জনশক্তিকে ময়দানে দুর্বার ও আপসহীন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার অবৈধ রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতেই ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা এই সনদে স্বাক্ষর এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালালেও, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদের ওপর ‘ভূতে আছর করেছে’ এবং তারা সবকিছুতেই পশ্চাদমুখী আচরণ করছে।
সোমবার রাজধানীর উত্তরার একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের উত্তরা পশ্চিম থানা আয়োজিত ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন সরকারকে গণবিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সভা আহ্বান করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন কোনো গতানুগতিক রাজনীতি নয়, বরং আর্ত-মানবতার কল্যাণ ও মুক্তির এক আপসহীন আন্দোলন। এখানে ক্ষমতা কোনো ভোগের বিষয় নয়, বরং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক দৃঢ় প্রত্যয়ের নাম। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলো মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও আদর্শ রাষ্ট্র বিনির্মাণে তেমন সাফল্য দেখাতে পারেনি, বরং ক্ষমতাকে আত্মপুঁজার অনুসঙ্গে পরিণত করেছিলো।
সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ আমাদেরকে নতুন করে আশার আলো দেখালেও বর্তমান ক্ষমতাসীনরা অতীতের পুরনো অশুভ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। ফলে আমাদের অর্জিত বিপ্লব হাতছাড়া হতে বসেছে। শত-সহস্র প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লবকে ক্ষমতার দম্ভে ক্ষমতাসীনরা পদদলিত করতে কসুর করছে না। এমতাবস্থায় দেশের কোনো আত্মসচেতন মানুষ নির্লিপ্ত থাকতে পারে না। তিনি ‘জুলাই চেতনা’য় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বিষয়ে জনগণ কোনো টালবাহানাই মেনে নেবে না, বরং সরকারকে সাংবিধানিক সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে বাধ্য করবে।
রিপোর্টারের নাম 























