ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

লোহাগাড়ায় বন্যায় ২৩ হাজার ৭৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, ৪৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় ২৩ হাজার ৭৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সড়ক, সেতু, কালভার্ট, কৃষি, মৎস্য, বনাঞ্চল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ, বসতঘরসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ এখনো সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকটে ভুগছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুসারে, বন্যায় ৮৩ কিলোমিটার পাকা, কাঁচা ও ইটের খোয়া-বিছানো সড়ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪টি সেতু, ২০টি কালভার্ট, ১৮৪ হেক্টর শস্যক্ষেত, ১৩৫ হেক্টর বীজতলা, ১ হাজার ৬৫০টি পুকুর, ১ হাজার ১৮০টি কাঁচা ঘর, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি কলেজ, ৫টি মাদ্রাসা, ১৫টি কমিউনিটি বিদ্যালয়, ১টি ক্লিনিক, ৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ২০টি মসজিদ, ৩টি মন্দির, ১৫৪ হেক্টর বনায়ন এবং ১৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন। প্রায় আধা কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চুনতি ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল গফুর জানান, ৪ জুলাইয়ের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তার বাড়ি ভেঙে গেছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পানির ওপর বসবাস করছেন এবং রান্নার পরিবেশ না থাকায় শুকনা খাবার খেয়ে দিন কাটছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ নাহিদ জাকির বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫টি শুকনা খাবারের প্যাকেট এবং ৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও দানশীল ব্যক্তিরা বন্যার্তদের সহায়তা করছেন। তিনি জানান, আরও ১৫ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ২০০ বান্ডিল টিনের চাহিদার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টংকাবতী খালের তীব্র স্রোতে খালপাড় ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এতে অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাকার হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড, তৃপ্ত টুখেল

লোহাগাড়ায় বন্যায় ২৩ হাজার ৭৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, ৪৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় ২৩ হাজার ৭৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সড়ক, সেতু, কালভার্ট, কৃষি, মৎস্য, বনাঞ্চল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ, বসতঘরসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ এখনো সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকটে ভুগছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুসারে, বন্যায় ৮৩ কিলোমিটার পাকা, কাঁচা ও ইটের খোয়া-বিছানো সড়ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪টি সেতু, ২০টি কালভার্ট, ১৮৪ হেক্টর শস্যক্ষেত, ১৩৫ হেক্টর বীজতলা, ১ হাজার ৬৫০টি পুকুর, ১ হাজার ১৮০টি কাঁচা ঘর, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি কলেজ, ৫টি মাদ্রাসা, ১৫টি কমিউনিটি বিদ্যালয়, ১টি ক্লিনিক, ৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ২০টি মসজিদ, ৩টি মন্দির, ১৫৪ হেক্টর বনায়ন এবং ১৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন। প্রায় আধা কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চুনতি ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল গফুর জানান, ৪ জুলাইয়ের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তার বাড়ি ভেঙে গেছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পানির ওপর বসবাস করছেন এবং রান্নার পরিবেশ না থাকায় শুকনা খাবার খেয়ে দিন কাটছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ নাহিদ জাকির বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫টি শুকনা খাবারের প্যাকেট এবং ৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও দানশীল ব্যক্তিরা বন্যার্তদের সহায়তা করছেন। তিনি জানান, আরও ১৫ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ২০০ বান্ডিল টিনের চাহিদার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টংকাবতী খালের তীব্র স্রোতে খালপাড় ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এতে অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের