ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

এপিসি থেকে ইয়ামিনের নিথর দেহ ছুড়ে ফেলার সেই বিভীষিকা: এক অমর ত্যাগের গল্প

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের ইতিহাসে এক কালজয়ী ও শোকাতুর দিন। ওই দিন সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) মেধাবী শিক্ষার্থী শাইখ আসহাবুল ইয়ামিন। সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে চলমান আন্দোলনে তিনিই ছিলেন প্রথম শহীদ। পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে তার নিথর দেহ রাস্তায় ছুড়ে ফেলার সেই ভিডিও আজও দেশবাসীর বিবেককে নাড়িয়ে দেয়।

प्रत्यक्षদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, জোহরের নামাজ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ইয়ামিন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যখন শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল, তখন পুলিশকে গুলি থামাতে অনুরোধ করতে একটি এপিসির ওপর উঠে পড়েন তিনি। ঠিক তখনই খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি এপিসির ওপর লুটিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ সদস্যরা নির্মমভাবে তার দেহটি টেনেহিঁচড়ে রাস্তার ওপর ফেলে দেয়।

মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ইয়ামিনের এই আত্মত্যাগের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে প্রতিবাদের দাবানল জ্বলে ওঠে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আন্দোলনকে একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। দেশের জন্য ইয়ামিনের এই বীরত্বগাথা ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাকার হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড, তৃপ্ত টুখেল

এপিসি থেকে ইয়ামিনের নিথর দেহ ছুড়ে ফেলার সেই বিভীষিকা: এক অমর ত্যাগের গল্প

আপডেট সময় : ১২:১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের ইতিহাসে এক কালজয়ী ও শোকাতুর দিন। ওই দিন সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) মেধাবী শিক্ষার্থী শাইখ আসহাবুল ইয়ামিন। সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে চলমান আন্দোলনে তিনিই ছিলেন প্রথম শহীদ। পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে তার নিথর দেহ রাস্তায় ছুড়ে ফেলার সেই ভিডিও আজও দেশবাসীর বিবেককে নাড়িয়ে দেয়।

प्रत्यक्षদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, জোহরের নামাজ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ইয়ামিন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যখন শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল, তখন পুলিশকে গুলি থামাতে অনুরোধ করতে একটি এপিসির ওপর উঠে পড়েন তিনি। ঠিক তখনই খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি এপিসির ওপর লুটিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ সদস্যরা নির্মমভাবে তার দেহটি টেনেহিঁচড়ে রাস্তার ওপর ফেলে দেয়।

মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ইয়ামিনের এই আত্মত্যাগের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে প্রতিবাদের দাবানল জ্বলে ওঠে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আন্দোলনকে একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। দেশের জন্য ইয়ামিনের এই বীরত্বগাথা ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।