২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নরসিংদীতে পুলিশের গুলিতে প্রথম শহীদ হন ১৫ বছর বয়সী কিশোর তাহমিদ ভূঁইয়া। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নামা এই নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শনাক্ত হয়নি তাহমিদের বুকে গুলি চালানো সেই ঘাতক। বিচারহীনতার এই দীর্ঘ অপেক্ষায় শোকাতুর পরিবারের চাপা কান্না যেন থামছেই না।
সেদিন নরসিংদীর জেলখানা মোড় এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটের পাশাপাশি নির্বিচারে গুলি চালানো হলে রাজপথে লুটিয়ে পড়ে তাহমিদ। তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা সেই দিনের বিভীষিকাময় স্মৃতি মনে করে এখনো শিউরে ওঠেন। তাহমিদের বুক ঝাঁজরা করে দেওয়া সেই গুলির ক্ষত আজও বিচার ব্যবস্থার কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে।
তাহমিদ ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে এবং তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি ছিল তার অদম্য ঝোঁক। বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখত সে। কিন্তু একটি বুলেট তার সেই সব স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর স্মরণে প্রতি বছর স্কুল কর্তৃপক্ষ শোক পালন করলেও পরিবারের দাবি একটাই—তাহমিদের হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।
রিপোর্টারের নাম 























