বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীদের নৃশংস হামলায় ক্যাম্পাস সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নভোথিয়েটারের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
হামলায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং এশিয়া পোস্টের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আবু উবাইদা ও আব্দুল কাদের জীবনসহ একই বিভাগের আটজন শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হন। এছাড়া বাংলা, লোকপ্রশাসন, সিএসই, হিসাববিজ্ঞান ও ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীও আক্রমণের শিকার হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরফান সিফাতের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়। এই অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু উবাইদা এবং সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবনকে নভোথিয়েটারের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। এরপরই আরফান সিফাতের নেতৃত্বে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
খবর পেয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীদের উদ্ধার করতে গেলে, হামলাকারীরা তাদেরও আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ মারধর করে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকপ্রশাসন, কোস্টাল এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও আক্রমণ চালানো হয়। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যার প্রতিক্রিয়ায় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্তসহ একাধিক নেতাকর্মী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
হামলার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আরও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন। ‘আজকালের কণ্ঠ’-এর সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ‘দৈনিক আমার দেশ’-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাসুদ রানার ওপর হামলা চালানো হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই নৃশংস হামলায় নেতৃত্ব দেন গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আরফান সিফাত ও একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসান। এছাড়াও একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইমতি, রিয়াজ ও নাইমসহ আরও ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী হামলায় অংশ নেয়।
রিপোর্টারের নাম 























