ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে বৃষ্টির তীব্রতা বৃদ্ধির পূর্বাভাস: উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

শ্রাবণের শুরুতেই দেশের আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা দিলেও, সোমবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী সপ্তাহজুড়ে টানা মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পানির ঢলে দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টির পর কিছুটা বিরতি মিললেও ২০ বা ২১ জুলাই থেকে সারা দেশে আবারও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে এবং তা কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার জারি করা এক ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

ইতিমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিভাগ রংপুর অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ নীলফামারীর ডিমলায় সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬২, সিলেটে ৯৮ এবং নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিকে, এদিন রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হলেও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তায় বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে।

গতকাল সারা দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে; একই সময়ে রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার বিরাজ করছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।

বর্তমানে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বন্যা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজুড়ে ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সনে বিভ্রাট: ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা

দেশজুড়ে বৃষ্টির তীব্রতা বৃদ্ধির পূর্বাভাস: উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৪২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

শ্রাবণের শুরুতেই দেশের আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা দিলেও, সোমবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী সপ্তাহজুড়ে টানা মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পানির ঢলে দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টির পর কিছুটা বিরতি মিললেও ২০ বা ২১ জুলাই থেকে সারা দেশে আবারও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে এবং তা কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার জারি করা এক ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

ইতিমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিভাগ রংপুর অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ নীলফামারীর ডিমলায় সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬২, সিলেটে ৯৮ এবং নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিকে, এদিন রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হলেও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তায় বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে।

গতকাল সারা দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে; একই সময়ে রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার বিরাজ করছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।

বর্তমানে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বন্যা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।