ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা: জলাধার ভরাট করা যাবে না, এমপি শ্যামলের কঠোর বার্তা

প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেছেন, প্রাকৃতিক জলাধার ও পুকুর ভরাট করে কোনো আবাসন প্রকল্প নির্মাণ পরিবেশ আইনে অনুমোদিত নয়। এই নির্দেশনা অমান্য করে জলাধার ভরাট করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুনিয়াউট এলাকায় নিজ বাসভবনে সদর ও বিজয়নগর উপজেলার বাসিন্দাদের দেওয়া একটি স্মারকলিপি গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, সদর ও বিজয়নগর উপজেলার সংযোগ সড়কের পাশে পেলুনপুর, রাজাবাড়ি, দক্ষিণ রাজাবাড়ি, নাজিরাবাড়ি, দত্তখোলা, শিমরাইল কান্দি, কাউতলী, ভাদুঘর ও কালাইশ্রীপাড়া এলাকায় বসতভিটা, কৃষিজমি এবং প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৩০০ ভূমির মালিক এই প্রকল্প বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন।

এমপি শ্যামল আরও বলেন, শহরের তিতাস নদীর পূর্বপাশের এলাকাটি একটি প্রাকৃতিক জলাধার। এখানে কোনো অবস্থাতেই আবাসন প্রকল্প করতে দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে এমনিতেই পানির সংকট রয়েছে। বর্ষাকালে এখানে পানি আসে এবং পরে নেমে গেলেও যে পরিমাণ পানি থাকে, তা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, পরিবেশ আইনেও প্রাকৃতিক জলাধার ও পুকুর ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপরও কিছু ভূমিদস্যু ও অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে জলাধার ভরাটের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে কোনোভাবেই জলাধার ভরাট করে সেখানে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত উপশহর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ হাজার ২০০ একর কৃষিজমি ও জলাভূমি ভরাট হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে বর্ষাকালে উজানের পানি নামতে না পারায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া, কথিত উপশহরের প্লট ও ফ্ল্যাটের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে, যা সরকারের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জনস্বার্থে এবং বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি বিবেচনায় প্রকল্পটি থেকে সরে আসার দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজুড়ে ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সনে বিভ্রাট: ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা: জলাধার ভরাট করা যাবে না, এমপি শ্যামলের কঠোর বার্তা

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেছেন, প্রাকৃতিক জলাধার ও পুকুর ভরাট করে কোনো আবাসন প্রকল্প নির্মাণ পরিবেশ আইনে অনুমোদিত নয়। এই নির্দেশনা অমান্য করে জলাধার ভরাট করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুনিয়াউট এলাকায় নিজ বাসভবনে সদর ও বিজয়নগর উপজেলার বাসিন্দাদের দেওয়া একটি স্মারকলিপি গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, সদর ও বিজয়নগর উপজেলার সংযোগ সড়কের পাশে পেলুনপুর, রাজাবাড়ি, দক্ষিণ রাজাবাড়ি, নাজিরাবাড়ি, দত্তখোলা, শিমরাইল কান্দি, কাউতলী, ভাদুঘর ও কালাইশ্রীপাড়া এলাকায় বসতভিটা, কৃষিজমি এবং প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৩০০ ভূমির মালিক এই প্রকল্প বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন।

এমপি শ্যামল আরও বলেন, শহরের তিতাস নদীর পূর্বপাশের এলাকাটি একটি প্রাকৃতিক জলাধার। এখানে কোনো অবস্থাতেই আবাসন প্রকল্প করতে দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে এমনিতেই পানির সংকট রয়েছে। বর্ষাকালে এখানে পানি আসে এবং পরে নেমে গেলেও যে পরিমাণ পানি থাকে, তা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, পরিবেশ আইনেও প্রাকৃতিক জলাধার ও পুকুর ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপরও কিছু ভূমিদস্যু ও অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে জলাধার ভরাটের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে কোনোভাবেই জলাধার ভরাট করে সেখানে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত উপশহর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ হাজার ২০০ একর কৃষিজমি ও জলাভূমি ভরাট হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে বর্ষাকালে উজানের পানি নামতে না পারায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া, কথিত উপশহরের প্লট ও ফ্ল্যাটের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে, যা সরকারের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জনস্বার্থে এবং বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি বিবেচনায় প্রকল্পটি থেকে সরে আসার দাবি জানানো হয়েছে।