ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে জি এম কাদেরের নেতৃত্বে ঢাকায় জাপা নেতাদের জরুরি সভা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, দলীয় প্রতীক ‘লাঙ্গল’ নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র’, এবং সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এক জরুরি সভা আহ্বান করেছেন। সভায় সারা দেশের জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

দলীয় কো-চেয়ারম্যান, রংপুর মহানগর সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, সভা শেষে জাতীয় পার্টি একটি বড় ধরনের শোডাউন করবে এবং এই মিছিলে জি এম কাদের নিজেই নেতৃত্ব দেবেন।

দলীয় সূত্র মতে, জাতীয় পার্টি যদি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়, তবে তারা তিনশো আসনেই প্রার্থী দেবে। এর জন্য প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর-৩ (সদর) এবং মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল জাতীয় পার্টির ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করা এবং সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে থাকা দলটি প্রাথমিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, তারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং নির্বাচনি পরিবেশের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার এক শীর্ষ নেতা জানান, ব্যারিস্টার আনিসুল হক ও রুহুল আমিন হাওলাদাররা যে আলাদা জাতীয় পার্টি গঠন করেছেন, তারা এনসিপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করছেন। এই কারণেই তাঁরা দলের প্রতীক ‘লাঙ্গল’ দাবি করছেন। তিনি মনে করেন, আইনিভাবে লাঙ্গল প্রতীক জি এম কাদেরের কাছে থাকবে, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারসহ কয়েকটি দল এটি নিয়ে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা শুক্রবার বিকেলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন, শনিবার ঢাকায় দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের জরুরি সভা ডেকেছেন। সেখানে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টিকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে নানান চক্রান্ত চলছে। আমরা ১৯৯৬ সালে বিএনপির এক তরফা নির্বাচন ছাড়া সব নির্বাচনেই অংশ নিয়েছি। জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখি দল, আমরা সব সময় নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছি। জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে। ইতিমধ্যে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনেই দলের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে দলের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।”

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচন করলে অভাবনীয় ফল পাবে, এই আশঙ্কায় অনেক চক্রান্ত চলছে। শনিবার ঢাকায় জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে একটি মিছিল হবে বলেও তিনি জানান।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলা জাপার আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবুও জানান, শনিবার ঢাকায় সারা দেশের জেলা, মহানগর সভাপতি, সম্পাদকসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের ডাকা হয়েছে এবং সেখানে নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির বলেন, “জাতীয় পার্টির অবস্থা আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো। দল থেকে ব্যারিস্টার আনিসুল হক, রুহুল আমিন হাওলাদার, মজিবুল হক চুন্নু চলে গেছে—এরাই মূলত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করেছে। এখন জাতীয় পার্টি পুরোপুরি ক্লিন হয়েছে। এখন বিএনপি-আওয়ামী লীগ ঘেঁষা নয়, পুরোপুরি এরশাদের মূল জাতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে।” তিনি আশা করেন, আগামী নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক হয় এবং নির্বাচন কমিশন সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে জাতীয় পার্টি অনেক আসনে জয়ী হবে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে না বললে, আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা পাবেন বলে তিনি আশা করেন। নির্বাচন করলে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে জি এম কাদেরের নেতৃত্বে ঢাকায় জাপা নেতাদের জরুরি সভা

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, দলীয় প্রতীক ‘লাঙ্গল’ নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র’, এবং সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এক জরুরি সভা আহ্বান করেছেন। সভায় সারা দেশের জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

দলীয় কো-চেয়ারম্যান, রংপুর মহানগর সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, সভা শেষে জাতীয় পার্টি একটি বড় ধরনের শোডাউন করবে এবং এই মিছিলে জি এম কাদের নিজেই নেতৃত্ব দেবেন।

দলীয় সূত্র মতে, জাতীয় পার্টি যদি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়, তবে তারা তিনশো আসনেই প্রার্থী দেবে। এর জন্য প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর-৩ (সদর) এবং মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল জাতীয় পার্টির ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করা এবং সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে থাকা দলটি প্রাথমিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, তারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং নির্বাচনি পরিবেশের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার এক শীর্ষ নেতা জানান, ব্যারিস্টার আনিসুল হক ও রুহুল আমিন হাওলাদাররা যে আলাদা জাতীয় পার্টি গঠন করেছেন, তারা এনসিপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করছেন। এই কারণেই তাঁরা দলের প্রতীক ‘লাঙ্গল’ দাবি করছেন। তিনি মনে করেন, আইনিভাবে লাঙ্গল প্রতীক জি এম কাদেরের কাছে থাকবে, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারসহ কয়েকটি দল এটি নিয়ে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা শুক্রবার বিকেলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন, শনিবার ঢাকায় দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের জরুরি সভা ডেকেছেন। সেখানে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টিকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে নানান চক্রান্ত চলছে। আমরা ১৯৯৬ সালে বিএনপির এক তরফা নির্বাচন ছাড়া সব নির্বাচনেই অংশ নিয়েছি। জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখি দল, আমরা সব সময় নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছি। জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে। ইতিমধ্যে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনেই দলের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে দলের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।”

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচন করলে অভাবনীয় ফল পাবে, এই আশঙ্কায় অনেক চক্রান্ত চলছে। শনিবার ঢাকায় জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে একটি মিছিল হবে বলেও তিনি জানান।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলা জাপার আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবুও জানান, শনিবার ঢাকায় সারা দেশের জেলা, মহানগর সভাপতি, সম্পাদকসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের ডাকা হয়েছে এবং সেখানে নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির বলেন, “জাতীয় পার্টির অবস্থা আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো। দল থেকে ব্যারিস্টার আনিসুল হক, রুহুল আমিন হাওলাদার, মজিবুল হক চুন্নু চলে গেছে—এরাই মূলত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করেছে। এখন জাতীয় পার্টি পুরোপুরি ক্লিন হয়েছে। এখন বিএনপি-আওয়ামী লীগ ঘেঁষা নয়, পুরোপুরি এরশাদের মূল জাতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে।” তিনি আশা করেন, আগামী নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক হয় এবং নির্বাচন কমিশন সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে জাতীয় পার্টি অনেক আসনে জয়ী হবে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে না বললে, আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা পাবেন বলে তিনি আশা করেন। নির্বাচন করলে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি।