ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই সনদ ও নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ: ভোটের হাওয়ায় বিএনপি এগিয়ে, জামায়াত কিছুটা কোণঠাসা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

দেশে গত দু’মাস ধরে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। সম্প্রতি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হওয়ায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সব অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সব রাজনৈতিক দল সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ভোটের মাঠে কৌশল-পাল্টা কৌশলে অগ্রসর হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ভোট হচ্ছে—এই বিষয়টি মাথায় রেখেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইচ্ছুক দলগুলো নিজেদের মাঠ গোছাচ্ছে।

বিশেষ করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি জোট ও শরিক দলের সঙ্গেও আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্যান্য সব দলের সাথে তারা নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করছে। দলটি খুব শিগগিরই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দ্রুত দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তিনি ফিরে এলে দেশের পুরো রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। তাঁর প্রত্যাবর্তনে বিএনপির প্রার্থী বাছাই ও শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা আরও সহজ হবে এবং দলটির নির্বাচনী তৎপরতা বেগবান হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অগ্রসর হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের মতামতের সঙ্গেই বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করেছে। সব মিলিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান বর্তমানে অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই সাধারণ জনগণের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।

অন্যদিকে, ভোটের মাঠে রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকে জামায়াতে ইসলামী এতদিন নিজেদের অগ্রগামী মনে করলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ইস্যুতে তারা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেছে। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশেও দলটি নির্বাচনী মাঠে ক্রমেই যেন একা হয়ে পড়ছে। শুরুতে জামায়াত রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের শক্তি ও বলয় বাড়াতে বেশ তৎপর ছিল এবং নির্বাচনী জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু শুরুতেই হোঁচট খেতে হয় দলটিকে। জামায়াতের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা ছিল—ইসলামভিত্তিক দলগুলোর পাশাপাশি কিছু সাধারণ দলও তাদের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে আসবে। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, সাধারণ দল দূরে থাক, ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোও জামায়াতের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। রাজনৈতিক দলের বাইরে শক্তিশালী ইসলামী শক্তি ‘হেফাজতে ইসলাম’ নামে পরিচিত একটি বৃহত্তর অরাজনৈতিক সংগঠন। জামায়াতে ইসলামী আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংগঠনকে পাশে চেয়েছিল; কিন্তু হেফাজত জামায়াতকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো তাদের আকিদাগত নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরে সমালোচনা করছে। হেফাজতের আমিরও সবসময় জামায়াত নিয়ে সমালোচনা করছেন। ফলে নির্বাচনের আগে জামায়াত-হেফাজতের মধ্যে কোনো জোট বা অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হচ্ছে না, তা স্পষ্ট। এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতাদের মণ্ডপ পরিদর্শন ও নানান মন্তব্যও ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং পিআর পদ্ধতির নির্বাচনসহ কয়েক দফা দাবিতে যে আন্দোলন শুরু করেছিল, সেটিও আপাতত মাঠে মারা গেল। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনে সব দল একমত হয়েছে। যদিও এই গণভোট কখন হবে, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে, তবুও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সব রাজনৈতিক দলের জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে। সনদে স্বাক্ষর করা মানে সবকিছু মেনে নেওয়া, ফলে জামায়াতে ইসলামীর পিআরসহ অন্যান্য দাবি আদায়ের আর কোনো সুযোগ থাকছে না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতাদের নিয়ে গঠিত বহুল আলোচিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখনই আশাবাদী হতে পারছেন না। তরুণদের নিয়ে গঠিত এ দলটির অনেক নেতা শুরুতেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বদলি বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারিসহ নানান অপকর্মে জড়িয়ে পড়ায় সাধারণ জনগণের মনে তাদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়। এর ফলে অঙ্কুরেই তাদের অনেকটা বিনাশ ঘটেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সম্প্রতি এ দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট বা নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং রাজনীতিতে নতুন ধোঁয়াশারও সৃষ্টি করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। সব মিলিয়ে নতুন এ দলটি যেন খেই হারিয়ে রাজনৈতিক মাঠে এলোমেলো হয়ে ঘুরছে। এরপরও তারা আগামী নির্বাচন নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে। গণঅধিকার পরিষদের সাথে একীভূত হওয়া অথবা জোট গঠন করে তাতে আরও কয়েকটি দল যুক্ত করে নির্বাচনী জোট গঠনের চেষ্টাও দলটি করছে। তবে তা খুব একটা আশাজাগানিয়া নয়। এর বাইরে এ দলটি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির সাথে আসন সমঝোতায়ও যেতে পারে—এমন আলোচনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজমান।

সব মিলিয়ে এতদিন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী কৌশল-পাল্টা কৌশল, সবকিছুই সাজিয়েছিল জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে। এই সনদ বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দল গণভোট আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে। ১৫ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে বলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে। সনদ বাস্তবায়নে গণভোট নিয়ে ঐকমত্য থাকলেও গণভোটের ভিত্তি, সময় ও পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত সব দল সনদে সই করবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কমিশনের সুপারিশে বাস্তবায়নের উপায়, বিশেষ করে গণভোটের সময় ও ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে কী থাকছে—এগুলো আগে দেখতে চায় দলগুলো। এসবের ওপর সনদে সই করা না করার বিষয়টি নির্ভর করছে বলে দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

ঐকমত্য কমিশন সূত্র জানায়, গণভোটের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হওয়ায় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি হিসেবে এটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে কমিশন। এক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, অধ্যাপক ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেল যে মতামত দিয়েছে, সেটিকে ভিত্তি ধরছে কমিশন। প্রয়োজনে এটি আরও সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত করা হবে। সূত্র আরও জানায়, গণভোটের সময়ের বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছে কমিশন। আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে কমিশন। তবে বাস্তবায়নের সুপারিশ সনদের অংশ হবে না।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের যাত্রা শুরু হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই পর্বের আলোচনায় ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে কিছু প্রস্তাবে কোনো কোনো দলের ভিন্নমত রয়েছে। এই ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়েই তৈরি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। প্রথম পর্বে ৩৩টি এবং দ্বিতীয় পর্বে ৩০টি দল আলোচনায় অংশ নেয়। তবে সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের পাঁচ দিন আলোচনা হলেও ঐকমত্য হয়নি। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবরের আলোচনায় দলগুলোর অনড় অবস্থানের মুখে ঐকমত্য কমিশন জানায়, বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সমন্বয় করে বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সরকারকে সুপারিশ দেবে কমিশন।

সনদে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি ধাপের কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সুপারিশ তৈরি করার ক্ষেত্রে কমিশন বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কমিশন মনে করে, একটি বিশেষ আদেশ জারি করে তার ভিত্তিতে গণভোট করতে হবে। এছাড়া আগামী সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা পালনের (সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদ) ক্ষমতা দিতে হবে এবং কত দিনের মধ্যে সংবিধান-সংস্কার করা হবে, তাও নির্ধারণ করে দিতে হবে। ঐকমত্য কমিশন সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত তারা মনে করছে, গণভোটে প্রশ্ন হতে পারে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চান কি না। এক্ষেত্রে দুটি প্রশ্ন রাখার চিন্তা করা হচ্ছে: একটিতে থাকবে, যেগুলোতে ঐকমত্য আছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন চান কি না। আরেকটিতে থাকবে ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন চায় কি না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তায়নের যে সুপারিশ ঐকমত্য কমিশন দেবে, তাতে সব দলের একমত হওয়া উচিত। সরকার যদি এক্ষেত্রে কোনো মত চাপিয়ে দেয় তাহলে সেটি হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সব দলের সম্মতিতেই অগ্রসর হওয়া উচিত।

শুরু থেকেই বিএনপি বলে আসছে, জুলাই সনদ নিয়ে সংবিধান আদেশ জারি করা যাবে না, সনদকে সংবিধানের ওপরে স্থান দেওয়া যাবে না। দলটি বলছে, আদেশ নয়; বরং জুলাই সনদ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা যায়। তার ভিত্তিতে একটি নতুন অধ্যাদেশ করে গণভোট করা যায়। আর সে গণভোট হবে সংসদ নির্বাচনের সাথে একই দিন। সনদের অঙ্গীকারনামায় যুক্ত করা হবে যে, ভিন্নমতগুলোর বিষয় দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করবে এবং নির্বাচিত হলে তারা ভিন্নমত অনুসারে সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবরের আলোচনাতেও বিএনপি তাদের এই অবস্থান তুলে ধরে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে বিএনপি সবসময়ই আন্তরিক। এ বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে প্রায় সবাই একমত হয়েছে। সবাই গণভোটের পক্ষে মতামত দিয়েছে এবং সেটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একই দিন হতে হবে। জনগণ নিশ্চয় সংস্কারের বিষয়ে বিএনপির আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা বুঝতে পেরেছে। কয়েকটি দল নির্বাচনের আগে গণভোট চাইছে। বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে ঐকমত্য কমিশন যে সুপারিশ দেবে, তা বিএনপি মানবে কি না—জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঐকমত্য কমিশন কী সুপারিশ দেয়, তা দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি চায়, সংস্কার টেকসই করতে সংবিধান আদেশ না হলেও জুলাই বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে তার ভিত্তিতে গণভোট করতে হবে। আগামী জাতীয় সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা পালনের ক্ষমতা দিতে হবে। ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোও সনদ ও গণভোটে থাকতে হবে।

ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে যে সুপারিশ দেবে, জামায়াতে ইসলামী তা মেনে নেবে কি না এবং সনদে সই করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কমিশনের সুপারিশে কী আসে, সেটি আগে দেখতে হবে। তবে সংস্কার নিয়ে দীর্ঘ এক বছর কাজ করার পর যদি সরকার কিছু চাপিয়ে দেয়, সেটি জনগণ মানবে বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক গতকাল বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতেই আগামীর বাংলাদেশ চলবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির মাধ্যমেই ত্রয়োদশ নির্বাচন দিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আর সংসদ নির্বাচনের আগে অর্থাৎ আগামী নভেম্বর মাসে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের লক্ষ্যে গণভোট দিতে হবে।

এনসিপিও সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ আগে দেখতে চায়। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে কমিশনের কী সুপারিশ আসে, গণভোট কখন হবে, নোট অব ডিসেন্টের (ভিন্নমত) বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে—এসব দেখে তারা তাদের পরবর্তী অবস্থান জানাবেন।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, গণভোটের মাধ্যমেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। এর ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণ চায়। এক্ষেত্রে জনগণের অভিপ্রায়কে সরকার প্রাধান্য দেবে বলে আমরা মনে করি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

জুলাই সনদ ও নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ: ভোটের হাওয়ায় বিএনপি এগিয়ে, জামায়াত কিছুটা কোণঠাসা

আপডেট সময় : ১০:১৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

দেশে গত দু’মাস ধরে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। সম্প্রতি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হওয়ায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সব অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সব রাজনৈতিক দল সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ভোটের মাঠে কৌশল-পাল্টা কৌশলে অগ্রসর হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ভোট হচ্ছে—এই বিষয়টি মাথায় রেখেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইচ্ছুক দলগুলো নিজেদের মাঠ গোছাচ্ছে।

বিশেষ করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি জোট ও শরিক দলের সঙ্গেও আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্যান্য সব দলের সাথে তারা নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করছে। দলটি খুব শিগগিরই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দ্রুত দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তিনি ফিরে এলে দেশের পুরো রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। তাঁর প্রত্যাবর্তনে বিএনপির প্রার্থী বাছাই ও শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা আরও সহজ হবে এবং দলটির নির্বাচনী তৎপরতা বেগবান হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অগ্রসর হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের মতামতের সঙ্গেই বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করেছে। সব মিলিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান বর্তমানে অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই সাধারণ জনগণের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।

অন্যদিকে, ভোটের মাঠে রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকে জামায়াতে ইসলামী এতদিন নিজেদের অগ্রগামী মনে করলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ইস্যুতে তারা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেছে। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশেও দলটি নির্বাচনী মাঠে ক্রমেই যেন একা হয়ে পড়ছে। শুরুতে জামায়াত রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের শক্তি ও বলয় বাড়াতে বেশ তৎপর ছিল এবং নির্বাচনী জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু শুরুতেই হোঁচট খেতে হয় দলটিকে। জামায়াতের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা ছিল—ইসলামভিত্তিক দলগুলোর পাশাপাশি কিছু সাধারণ দলও তাদের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে আসবে। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, সাধারণ দল দূরে থাক, ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোও জামায়াতের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। রাজনৈতিক দলের বাইরে শক্তিশালী ইসলামী শক্তি ‘হেফাজতে ইসলাম’ নামে পরিচিত একটি বৃহত্তর অরাজনৈতিক সংগঠন। জামায়াতে ইসলামী আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংগঠনকে পাশে চেয়েছিল; কিন্তু হেফাজত জামায়াতকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো তাদের আকিদাগত নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরে সমালোচনা করছে। হেফাজতের আমিরও সবসময় জামায়াত নিয়ে সমালোচনা করছেন। ফলে নির্বাচনের আগে জামায়াত-হেফাজতের মধ্যে কোনো জোট বা অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হচ্ছে না, তা স্পষ্ট। এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতাদের মণ্ডপ পরিদর্শন ও নানান মন্তব্যও ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং পিআর পদ্ধতির নির্বাচনসহ কয়েক দফা দাবিতে যে আন্দোলন শুরু করেছিল, সেটিও আপাতত মাঠে মারা গেল। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনে সব দল একমত হয়েছে। যদিও এই গণভোট কখন হবে, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে, তবুও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সব রাজনৈতিক দলের জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে। সনদে স্বাক্ষর করা মানে সবকিছু মেনে নেওয়া, ফলে জামায়াতে ইসলামীর পিআরসহ অন্যান্য দাবি আদায়ের আর কোনো সুযোগ থাকছে না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতাদের নিয়ে গঠিত বহুল আলোচিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখনই আশাবাদী হতে পারছেন না। তরুণদের নিয়ে গঠিত এ দলটির অনেক নেতা শুরুতেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বদলি বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারিসহ নানান অপকর্মে জড়িয়ে পড়ায় সাধারণ জনগণের মনে তাদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়। এর ফলে অঙ্কুরেই তাদের অনেকটা বিনাশ ঘটেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সম্প্রতি এ দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট বা নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং রাজনীতিতে নতুন ধোঁয়াশারও সৃষ্টি করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। সব মিলিয়ে নতুন এ দলটি যেন খেই হারিয়ে রাজনৈতিক মাঠে এলোমেলো হয়ে ঘুরছে। এরপরও তারা আগামী নির্বাচন নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে। গণঅধিকার পরিষদের সাথে একীভূত হওয়া অথবা জোট গঠন করে তাতে আরও কয়েকটি দল যুক্ত করে নির্বাচনী জোট গঠনের চেষ্টাও দলটি করছে। তবে তা খুব একটা আশাজাগানিয়া নয়। এর বাইরে এ দলটি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির সাথে আসন সমঝোতায়ও যেতে পারে—এমন আলোচনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজমান।

সব মিলিয়ে এতদিন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী কৌশল-পাল্টা কৌশল, সবকিছুই সাজিয়েছিল জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে। এই সনদ বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দল গণভোট আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে। ১৫ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে বলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে। সনদ বাস্তবায়নে গণভোট নিয়ে ঐকমত্য থাকলেও গণভোটের ভিত্তি, সময় ও পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত সব দল সনদে সই করবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কমিশনের সুপারিশে বাস্তবায়নের উপায়, বিশেষ করে গণভোটের সময় ও ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে কী থাকছে—এগুলো আগে দেখতে চায় দলগুলো। এসবের ওপর সনদে সই করা না করার বিষয়টি নির্ভর করছে বলে দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

ঐকমত্য কমিশন সূত্র জানায়, গণভোটের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হওয়ায় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি হিসেবে এটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে কমিশন। এক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, অধ্যাপক ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেল যে মতামত দিয়েছে, সেটিকে ভিত্তি ধরছে কমিশন। প্রয়োজনে এটি আরও সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত করা হবে। সূত্র আরও জানায়, গণভোটের সময়ের বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছে কমিশন। আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে কমিশন। তবে বাস্তবায়নের সুপারিশ সনদের অংশ হবে না।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের যাত্রা শুরু হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই পর্বের আলোচনায় ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে কিছু প্রস্তাবে কোনো কোনো দলের ভিন্নমত রয়েছে। এই ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়েই তৈরি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। প্রথম পর্বে ৩৩টি এবং দ্বিতীয় পর্বে ৩০টি দল আলোচনায় অংশ নেয়। তবে সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের পাঁচ দিন আলোচনা হলেও ঐকমত্য হয়নি। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবরের আলোচনায় দলগুলোর অনড় অবস্থানের মুখে ঐকমত্য কমিশন জানায়, বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সমন্বয় করে বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সরকারকে সুপারিশ দেবে কমিশন।

সনদে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি ধাপের কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সুপারিশ তৈরি করার ক্ষেত্রে কমিশন বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কমিশন মনে করে, একটি বিশেষ আদেশ জারি করে তার ভিত্তিতে গণভোট করতে হবে। এছাড়া আগামী সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা পালনের (সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদ) ক্ষমতা দিতে হবে এবং কত দিনের মধ্যে সংবিধান-সংস্কার করা হবে, তাও নির্ধারণ করে দিতে হবে। ঐকমত্য কমিশন সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত তারা মনে করছে, গণভোটে প্রশ্ন হতে পারে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চান কি না। এক্ষেত্রে দুটি প্রশ্ন রাখার চিন্তা করা হচ্ছে: একটিতে থাকবে, যেগুলোতে ঐকমত্য আছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন চান কি না। আরেকটিতে থাকবে ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন চায় কি না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তায়নের যে সুপারিশ ঐকমত্য কমিশন দেবে, তাতে সব দলের একমত হওয়া উচিত। সরকার যদি এক্ষেত্রে কোনো মত চাপিয়ে দেয় তাহলে সেটি হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সব দলের সম্মতিতেই অগ্রসর হওয়া উচিত।

শুরু থেকেই বিএনপি বলে আসছে, জুলাই সনদ নিয়ে সংবিধান আদেশ জারি করা যাবে না, সনদকে সংবিধানের ওপরে স্থান দেওয়া যাবে না। দলটি বলছে, আদেশ নয়; বরং জুলাই সনদ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা যায়। তার ভিত্তিতে একটি নতুন অধ্যাদেশ করে গণভোট করা যায়। আর সে গণভোট হবে সংসদ নির্বাচনের সাথে একই দিন। সনদের অঙ্গীকারনামায় যুক্ত করা হবে যে, ভিন্নমতগুলোর বিষয় দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করবে এবং নির্বাচিত হলে তারা ভিন্নমত অনুসারে সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবরের আলোচনাতেও বিএনপি তাদের এই অবস্থান তুলে ধরে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে বিএনপি সবসময়ই আন্তরিক। এ বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে প্রায় সবাই একমত হয়েছে। সবাই গণভোটের পক্ষে মতামত দিয়েছে এবং সেটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একই দিন হতে হবে। জনগণ নিশ্চয় সংস্কারের বিষয়ে বিএনপির আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা বুঝতে পেরেছে। কয়েকটি দল নির্বাচনের আগে গণভোট চাইছে। বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে ঐকমত্য কমিশন যে সুপারিশ দেবে, তা বিএনপি মানবে কি না—জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঐকমত্য কমিশন কী সুপারিশ দেয়, তা দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি চায়, সংস্কার টেকসই করতে সংবিধান আদেশ না হলেও জুলাই বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে তার ভিত্তিতে গণভোট করতে হবে। আগামী জাতীয় সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা পালনের ক্ষমতা দিতে হবে। ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোও সনদ ও গণভোটে থাকতে হবে।

ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে যে সুপারিশ দেবে, জামায়াতে ইসলামী তা মেনে নেবে কি না এবং সনদে সই করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কমিশনের সুপারিশে কী আসে, সেটি আগে দেখতে হবে। তবে সংস্কার নিয়ে দীর্ঘ এক বছর কাজ করার পর যদি সরকার কিছু চাপিয়ে দেয়, সেটি জনগণ মানবে বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক গতকাল বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতেই আগামীর বাংলাদেশ চলবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির মাধ্যমেই ত্রয়োদশ নির্বাচন দিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আর সংসদ নির্বাচনের আগে অর্থাৎ আগামী নভেম্বর মাসে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের লক্ষ্যে গণভোট দিতে হবে।

এনসিপিও সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ আগে দেখতে চায়। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে কমিশনের কী সুপারিশ আসে, গণভোট কখন হবে, নোট অব ডিসেন্টের (ভিন্নমত) বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে—এসব দেখে তারা তাদের পরবর্তী অবস্থান জানাবেন।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, গণভোটের মাধ্যমেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। এর ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণ চায়। এক্ষেত্রে জনগণের অভিপ্রায়কে সরকার প্রাধান্য দেবে বলে আমরা মনে করি।