ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে রেফারিং বিতর্ক তুঙ্গে: রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পাল্টে যাচ্ছে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত?

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না, বরং দিন দিন তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিশেষ করে নকআউট পর্বে লাল কার্ডের সিদ্ধান্তগুলো ফুটবল বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। কোয়ার্টার ফাইনালের আগ পর্যন্ত দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেও, তাদের ভাগ্যচক্র সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। একজন ফিফার বিশেষ ক্ষমায় মাঠে ফিরেছেন, আর অন্যজনকে নিষিদ্ধ হতে হয়েছে দুটি ম্যাচের জন্য। একই অপরাধে ফিফার এই দ্বৈত নীতি ও দ্বিমুখী আচরণ ফুটবল অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল শেষ বত্রিশের ম্যাচে, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়া। সেই খেলায় বসনিয়ার এক খেলোয়াড়ের গোড়ালিতে আঘাত করার কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফোলারিন বালোগান। ফিফার সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, তার পরবর্তী অর্থাৎ শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকার কথা ছিল। এর আগে একই ধরনের ফাউল করেও লিওনেল মেসিকে হলুদ কার্ডও দেওয়া হয়নি, যা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি।

তবে ঠিক এই মুহূর্তেই দৃশ্যপটে আসে নাটকীয় পরিবর্তন। লাল কার্ডের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আপিল করে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন। আর এই আপিলকে সফল করতে মাঠের বাইরে থেকে যুক্ত হয় সর্বোচ্চ রাজনৈতিক চাপ। বালোগানের লাল কার্ড বাতিলের জন্য স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি ফোন দেন ফিফা সভাপতিকে। এর পরপরই যেন জাদুর মতো বদলে যায় দৃশ্যপট। ফিফা তড়িঘড়ি করে জানিয়ে দেয়, লাল কার্ড দেখলেও পরবর্তী ম্যাচে বালোগানের খেলতে কোনো বাধা নেই। ফলে শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি মাঠে নামেন।

ফিফা এই সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিতে তাদের আচরণবিধির ২৭ নম্বর ধারা ব্যবহার করে। এই ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘কমিটির সবাই যদি একমত হয়, তবে যেকোনো শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করতে পারবে।’ এই নিয়ম খাটিয়ে বালোগানের শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে শর্ত থাকে যে, এই সময়ের মধ্যে তিনি যদি একই ধরনের আচরণ করেন বা আবারও লাল কার্ড দেখেন, তবে তার জন্য অপেক্ষা করবে আরও বড় ও কঠোর শাস্তি।

যুক্তরাষ্ট্র যখন ফিফার নিয়মের ফাঁক গলে পার পেয়ে উল্লাস করছে, ঠিক তখনই মুদ্রার নিষ্ঠুর উল্টো পিঠ দেখতে হয় ইংল্যান্ডকে। শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেন ইংলিশ ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা। তাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়, যা ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্ববাজারে বাংলাদেশি জাহাজের কদর: সংকট কাটিয়ে রপ্তানিতে ফিরল গতি

বিশ্বকাপে রেফারিং বিতর্ক তুঙ্গে: রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পাল্টে যাচ্ছে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত?

আপডেট সময় : ০২:৪৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না, বরং দিন দিন তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিশেষ করে নকআউট পর্বে লাল কার্ডের সিদ্ধান্তগুলো ফুটবল বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। কোয়ার্টার ফাইনালের আগ পর্যন্ত দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেও, তাদের ভাগ্যচক্র সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। একজন ফিফার বিশেষ ক্ষমায় মাঠে ফিরেছেন, আর অন্যজনকে নিষিদ্ধ হতে হয়েছে দুটি ম্যাচের জন্য। একই অপরাধে ফিফার এই দ্বৈত নীতি ও দ্বিমুখী আচরণ ফুটবল অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল শেষ বত্রিশের ম্যাচে, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়া। সেই খেলায় বসনিয়ার এক খেলোয়াড়ের গোড়ালিতে আঘাত করার কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফোলারিন বালোগান। ফিফার সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, তার পরবর্তী অর্থাৎ শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকার কথা ছিল। এর আগে একই ধরনের ফাউল করেও লিওনেল মেসিকে হলুদ কার্ডও দেওয়া হয়নি, যা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি।

তবে ঠিক এই মুহূর্তেই দৃশ্যপটে আসে নাটকীয় পরিবর্তন। লাল কার্ডের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আপিল করে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন। আর এই আপিলকে সফল করতে মাঠের বাইরে থেকে যুক্ত হয় সর্বোচ্চ রাজনৈতিক চাপ। বালোগানের লাল কার্ড বাতিলের জন্য স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি ফোন দেন ফিফা সভাপতিকে। এর পরপরই যেন জাদুর মতো বদলে যায় দৃশ্যপট। ফিফা তড়িঘড়ি করে জানিয়ে দেয়, লাল কার্ড দেখলেও পরবর্তী ম্যাচে বালোগানের খেলতে কোনো বাধা নেই। ফলে শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি মাঠে নামেন।

ফিফা এই সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিতে তাদের আচরণবিধির ২৭ নম্বর ধারা ব্যবহার করে। এই ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘কমিটির সবাই যদি একমত হয়, তবে যেকোনো শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করতে পারবে।’ এই নিয়ম খাটিয়ে বালোগানের শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে শর্ত থাকে যে, এই সময়ের মধ্যে তিনি যদি একই ধরনের আচরণ করেন বা আবারও লাল কার্ড দেখেন, তবে তার জন্য অপেক্ষা করবে আরও বড় ও কঠোর শাস্তি।

যুক্তরাষ্ট্র যখন ফিফার নিয়মের ফাঁক গলে পার পেয়ে উল্লাস করছে, ঠিক তখনই মুদ্রার নিষ্ঠুর উল্টো পিঠ দেখতে হয় ইংল্যান্ডকে। শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেন ইংলিশ ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা। তাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়, যা ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।