ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

মানবতার দৃষ্টান্ত: কোমরসমান পানি মাড়িয়ে দুর্গতদের দ্বারে দ্বারে পেকুয়ার ইউএনও

টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। প্লাবিত হয়েছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দাপ্তরিক কাজের প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম। সরকারি দপ্তরে বসে নির্দেশনা দেওয়ার পরিবর্তে তিনি নিজেই কোমরসমান পানি মাড়িয়ে ত্রাণসামগ্রী কাঁধে নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন পানিবন্দি মানুষের দোরগোড়ায়।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে ছুটে বেড়াতে দেখা গেছে। দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো, যারা বৃষ্টির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং যাদের ঘরে চুলা জ্বলেনি, তাদের হাতে তিনি তুলে দিচ্ছেন চাল, ডাল, তেল ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। রাতেও তিনি রান্না করা খাবার নিয়ে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর খোঁজ নিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন মানবিক তৎপরতা সচরাচর দেখা যায় না। ইউএনও রফিকুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক ঘরে রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় তারা উপোস থাকছেন। খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের এই তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার সঞ্চার করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী ভোজিনহার নামে নতুন প্রজাতির শামুকের নামকরণ

মানবতার দৃষ্টান্ত: কোমরসমান পানি মাড়িয়ে দুর্গতদের দ্বারে দ্বারে পেকুয়ার ইউএনও

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। প্লাবিত হয়েছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দাপ্তরিক কাজের প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম। সরকারি দপ্তরে বসে নির্দেশনা দেওয়ার পরিবর্তে তিনি নিজেই কোমরসমান পানি মাড়িয়ে ত্রাণসামগ্রী কাঁধে নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন পানিবন্দি মানুষের দোরগোড়ায়।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে ছুটে বেড়াতে দেখা গেছে। দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো, যারা বৃষ্টির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং যাদের ঘরে চুলা জ্বলেনি, তাদের হাতে তিনি তুলে দিচ্ছেন চাল, ডাল, তেল ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। রাতেও তিনি রান্না করা খাবার নিয়ে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর খোঁজ নিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন মানবিক তৎপরতা সচরাচর দেখা যায় না। ইউএনও রফিকুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক ঘরে রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় তারা উপোস থাকছেন। খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের এই তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার সঞ্চার করেছে।