ঢাকা ০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ভারি বর্ষণে ধস, ৪ দিন ধরে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা টানা ভারি বর্ষণের ফলে সারা দেশের সঙ্গে ৪ দিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাঘাইহাট থেকে মারিশ্যা সড়কের ‘৩ কিলো’ নামক স্থানে বড় একটি অংশ ধসে পড়ায় গত ৮ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে।

শুক্রবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় বাঘাইছড়ির বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং বন্যা কবলিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, রাস্তাটি একেবারে ধসে যাওয়ায় আপাতত ভারি কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। তবে দ্রুত মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বাঘাইছড়ির পৌরসভা, সাজেক, বঙ্গলতলীসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮৭টি পরিবারের সর্বমোট ২ হাজার ৩৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫২০ জন আশ্রয় নেন সাজেকের বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, টানা বৃষ্টি কমে আসায় বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজন ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বিকালের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সড়ক যোগাযোগ দ্রুত সচল করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

রাঙ্গামাটি প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, গত শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১২.৪ মিলিমিটার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃষ্টি ও ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা শুরু

ভারি বর্ষণে ধস, ৪ দিন ধরে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা টানা ভারি বর্ষণের ফলে সারা দেশের সঙ্গে ৪ দিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাঘাইহাট থেকে মারিশ্যা সড়কের ‘৩ কিলো’ নামক স্থানে বড় একটি অংশ ধসে পড়ায় গত ৮ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে।

শুক্রবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় বাঘাইছড়ির বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং বন্যা কবলিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, রাস্তাটি একেবারে ধসে যাওয়ায় আপাতত ভারি কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। তবে দ্রুত মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বাঘাইছড়ির পৌরসভা, সাজেক, বঙ্গলতলীসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮৭টি পরিবারের সর্বমোট ২ হাজার ৩৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫২০ জন আশ্রয় নেন সাজেকের বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, টানা বৃষ্টি কমে আসায় বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজন ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বিকালের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সড়ক যোগাযোগ দ্রুত সচল করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

রাঙ্গামাটি প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, গত শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১২.৪ মিলিমিটার।