ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: বিক্ষোভে উত্তাল রাজ্য, পুলিশের গুলিতে নিহত সন্দেহভাজন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এক শিশুর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে। এই ঘটনার জেরে হওয়া গণপিটুনিতে এক নির্দোষ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং পরে পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন প্রধান সন্দেহভাজন। এই ঘটনা দেশটির বিচারব্যবস্থা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

গত রোববার পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুর শহরের একটি পুকুর থেকে ১১-১২ বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটি তার আগের দিন নিখোঁজ হয়েছিল এবং পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর জীবিত অবস্থায় বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার মাথায় গুরুতর আঘাত এবং শরীরে কামড় ও আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এই নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে এক ২৬ বছর বয়সী যুবককে প্রধান অপরাধী ভেবে পিটিয়ে হত্যা করে। তবে, পুলিশ যখন মূল সন্দেহভাজনদের আটক করে, তখন দেখা যায় নিহত যুবক ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না। রাজ্য সরকার নিশ্চিত করেছে যে, গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তি সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে বিরোধী দলগুলো রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করছে।

নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেয়নি এবং তাদের নিজেদের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে মেয়েটিকে খুঁজতে হয়েছিল। লাশ উদ্ধারের পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে দোকানপাটে ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রধান সন্দেহভাজন প্রকাশ মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হন। পুলিশের দাবি, প্রকাশ তাদের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই তথাকথিত ‘এনকাউন্টার’ বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে বিরোধী দলগুলো আইনের শাসনের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তের হামলায় এক যুবক নিহত, এলাকায় উত্তেজনা

পশ্চিমবঙ্গে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: বিক্ষোভে উত্তাল রাজ্য, পুলিশের গুলিতে নিহত সন্দেহভাজন

আপডেট সময় : ১১:০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এক শিশুর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে। এই ঘটনার জেরে হওয়া গণপিটুনিতে এক নির্দোষ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং পরে পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন প্রধান সন্দেহভাজন। এই ঘটনা দেশটির বিচারব্যবস্থা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

গত রোববার পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুর শহরের একটি পুকুর থেকে ১১-১২ বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটি তার আগের দিন নিখোঁজ হয়েছিল এবং পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর জীবিত অবস্থায় বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার মাথায় গুরুতর আঘাত এবং শরীরে কামড় ও আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এই নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে এক ২৬ বছর বয়সী যুবককে প্রধান অপরাধী ভেবে পিটিয়ে হত্যা করে। তবে, পুলিশ যখন মূল সন্দেহভাজনদের আটক করে, তখন দেখা যায় নিহত যুবক ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না। রাজ্য সরকার নিশ্চিত করেছে যে, গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তি সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে বিরোধী দলগুলো রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করছে।

নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেয়নি এবং তাদের নিজেদের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে মেয়েটিকে খুঁজতে হয়েছিল। লাশ উদ্ধারের পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে দোকানপাটে ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রধান সন্দেহভাজন প্রকাশ মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হন। পুলিশের দাবি, প্রকাশ তাদের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই তথাকথিত ‘এনকাউন্টার’ বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে বিরোধী দলগুলো আইনের শাসনের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।