ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে ‘আগে শট’ নেওয়ার ধারণার নতুন বিশ্লেষণ

ফুটবল ম্যাচের ১২০ মিনিট শেষে যখন টাইব্রেকারে ভাগ্য নির্ধারণের পালা আসে, তখন একটি প্রশ্ন প্রায়শই সামনে আসে—কোন দল আগে শট নেবে? প্রচলিত ধারণা ছিল, আগে শট নেওয়া দল মানসিকভাবে এগিয়ে থাকে এবং প্রথম গোল করে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তবে চলতি বিশ্বকাপ এই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট অপ্টা অ্যানালিস্টের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি টাইব্রেকারে জয় পেয়েছে দ্বিতীয় শট নেওয়া দল। শুধু তাই নয়, গত ১৫টি বিশ্বকাপ টাইব্রেকারের মধ্যে ১৩টিতেই জিতেছে পরে শট নেওয়া দল, যা প্রায় ৮৭ শতাংশ সাফল্যের হার। তবে ২০২২ বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচে মরক্কো স্পেনকে এবং ক্রোয়েশিয়া ব্রাজিলকে হারিয়েছিল আগে পেনাল্টি নিয়ে, যা ছিল ব্যতিক্রম।

বিশ্বকাপের সামগ্রিক ইতিহাসে, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে মোট ৩৫টি টাইব্রেকারের মধ্যে ১৮টিতে (৫১.৪ শতাংশ) জয় পেয়েছিল দ্বিতীয় পেনাল্টি নেওয়া দল। অর্থাৎ, ব্যবধান ছিল প্রায় সমান। চলতি আসরের চারটি টাইব্রেকার যোগ করলে মোট ৩৯টি টাইব্রেকারের মধ্যে ২২টিতে (৫৬.৪ শতাংশ) জিতেছে দ্বিতীয় শট নেওয়া দল। সামগ্রিক চিত্র এখনো খুব বেশি একপেশে না হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে জয়ের হার স্পষ্টভাবেই দ্বিতীয় শট নেওয়া দলের দিকে ঝুঁকছে।

মজার বিষয় হলো, একসময় এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গিয়েছিল। প্রথম ২৪টি বিশ্বকাপ টাইব্রেকারের মাত্র ৯টিতে (৩৭.৫ শতাংশ) জিতেছিল দ্বিতীয় শট নেওয়া দল। সেই সময় থেকেই মূলত আগে শট নেওয়ার ধারণাটি বেশি সুবিধাজনক বলে বিবেচিত হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই হিসাব পাল্টে গেছে।

শুধু বিশ্বকাপ নয়, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পরিসংখ্যানও বলছে, আগে বা পরে শট নেওয়ার মধ্যে তেমন বড় কোনো পার্থক্য নেই। ইউরোর ইতিহাসে ২৫টি টাইব্রেকারের মধ্যে ১২টিতে জিতেছে দ্বিতীয় শট নেওয়া দল, যা প্রায় সমান ফলাফল নির্দেশ করে। ক্লাব ফুটবলেও এই হিসাব মিশ্র। ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে ৪২টি টাইব্রেকারের মধ্যে মাত্র ১৬টিতে জিতেছে দ্বিতীয় শট নেওয়া দল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির বাধায় পিছু হটলো ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী

বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে ‘আগে শট’ নেওয়ার ধারণার নতুন বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ফুটবল ম্যাচের ১২০ মিনিট শেষে যখন টাইব্রেকারে ভাগ্য নির্ধারণের পালা আসে, তখন একটি প্রশ্ন প্রায়শই সামনে আসে—কোন দল আগে শট নেবে? প্রচলিত ধারণা ছিল, আগে শট নেওয়া দল মানসিকভাবে এগিয়ে থাকে এবং প্রথম গোল করে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তবে চলতি বিশ্বকাপ এই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট অপ্টা অ্যানালিস্টের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি টাইব্রেকারে জয় পেয়েছে দ্বিতীয় শট নেওয়া দল। শুধু তাই নয়, গত ১৫টি বিশ্বকাপ টাইব্রেকারের মধ্যে ১৩টিতেই জিতেছে পরে শট নেওয়া দল, যা প্রায় ৮৭ শতাংশ সাফল্যের হার। তবে ২০২২ বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচে মরক্কো স্পেনকে এবং ক্রোয়েশিয়া ব্রাজিলকে হারিয়েছিল আগে পেনাল্টি নিয়ে, যা ছিল ব্যতিক্রম।

বিশ্বকাপের সামগ্রিক ইতিহাসে, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে মোট ৩৫টি টাইব্রেকারের মধ্যে ১৮টিতে (৫১.৪ শতাংশ) জয় পেয়েছিল দ্বিতীয় পেনাল্টি নেওয়া দল। অর্থাৎ, ব্যবধান ছিল প্রায় সমান। চলতি আসরের চারটি টাইব্রেকার যোগ করলে মোট ৩৯টি টাইব্রেকারের মধ্যে ২২টিতে (৫৬.৪ শতাংশ) জিতেছে দ্বিতীয় শট নেওয়া দল। সামগ্রিক চিত্র এখনো খুব বেশি একপেশে না হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে জয়ের হার স্পষ্টভাবেই দ্বিতীয় শট নেওয়া দলের দিকে ঝুঁকছে।

মজার বিষয় হলো, একসময় এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গিয়েছিল। প্রথম ২৪টি বিশ্বকাপ টাইব্রেকারের মাত্র ৯টিতে (৩৭.৫ শতাংশ) জিতেছিল দ্বিতীয় শট নেওয়া দল। সেই সময় থেকেই মূলত আগে শট নেওয়ার ধারণাটি বেশি সুবিধাজনক বলে বিবেচিত হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই হিসাব পাল্টে গেছে।

শুধু বিশ্বকাপ নয়, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পরিসংখ্যানও বলছে, আগে বা পরে শট নেওয়ার মধ্যে তেমন বড় কোনো পার্থক্য নেই। ইউরোর ইতিহাসে ২৫টি টাইব্রেকারের মধ্যে ১২টিতে জিতেছে দ্বিতীয় শট নেওয়া দল, যা প্রায় সমান ফলাফল নির্দেশ করে। ক্লাব ফুটবলেও এই হিসাব মিশ্র। ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে ৪২টি টাইব্রেকারের মধ্যে মাত্র ১৬টিতে জিতেছে দ্বিতীয় শট নেওয়া দল।