কাতার বিশ্বকাপ থেকে শক্তিশালী ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে মরক্কো। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে এবারের মতো তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হলেও, দলের খেলোয়াড়দের নিবেদন ও পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি। তবে ম্যাচের একটি বিতর্কিত হ্যান্ডবল ঘটনা নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করতে ভোলেননি তিনি।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। মরক্কোর দাবি ছিল, ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিয়াঁ রাবিওর হাতে বল লেগেছিল। মরক্কোর খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের জন্য জোরালো আবেদন করলেও রেফারি তাতে কোনো সাড়া দেননি। এই ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কিলিয়ান এমবাপ্পে তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ফ্রান্সের পক্ষে প্রথম গোলটি করে দলকে এগিয়ে নেন। ম্যাচ শেষে হ্যান্ডবল প্রসঙ্গে কোচ ওয়াহবি বলেন, “হ্যান্ডবল হয়েছিল বলে আমাদের কিছু খেলোয়াড় খেলা থামিয়ে দিয়েছিল। সেখানে নিশ্চিতভাবেই হ্যান্ডবল হয়েছিল। আমি জানি না সেটির বাঁশি বাজানো উচিত ছিল কি না, আমার কোনো ধারণা নেই…। তবে শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা থেকেই গোলটি হয়।”
কোচ ও খেলোয়াড়দের অভিযোগ সত্ত্বেও রেফারিং বিশ্লেষক হুয়ান গুজম্যান মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তকেই সঠিক বলে মনে করছেন। তার মতে, রেফারি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দুটি মূল কারণে: প্রথমত, হ্যান্ডবলটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং গোলের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সংযোগ ছিল না। দ্বিতীয়ত, সেই মুহূর্তে বলের নিয়ন্ত্রণ ফ্রান্সের কাছে ছিল না।
পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই ফ্রান্সের একক আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো, যা মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচেও স্পষ্ট ছিল। ফরাসিদের এই দাপুটে ফুটবলকে অকপটে স্বীকার করেছেন মরক্কোর কোচ। ফ্রান্সের প্রশংসা করে ওয়াহবি বলেন, “ফ্রান্স সত্যিই একটি দুর্দান্ত দল। আমরা এমন একটি দলের বিরুদ্ধে খেলছিলাম, যারা গত দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে। তাদের এই দলে এখন যে প্রতিভা আছে, তা আগেও ছিল না।”
কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়াটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক হলেও একে ফুটবলীয় বাস্তবতা হিসেবেই মেনে নিচ্ছেন মরক্কো কোচ। তবে এই হার তাদের বড় স্বপ্ন দেখাকে থামিয়ে দিচ্ছে না। দলের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াহবি জানান, তারা আরও অনেক দূর যেতে চান এবং একদিন বিশ্বকাপ জিততে চান।
রিপোর্টারের নাম 























