মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে তাঁর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউসের প্রধান প্রবেশদ্বার আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে অস্থায়ী ব্যারিকেড সরিয়ে সেখানে একটি স্থায়ী প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। সিএনএন-কে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুরো নির্মাণ কাজ শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রবেশদ্বারটিকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছিল। হোয়াইট হাউসের উত্তর দিকে অবস্থিত এই প্রবেশদ্বারটি ‘নর্থ পোর্টিকো’ নামে পরিচিত। বর্তমানে এটি অস্থায়ীভাবে মাচান ও ত্রিপল দিয়ে ঢাকা রয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে কর্মীরা বাইরের স্তম্ভগুলো মেরামতের কাজ করছেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা আরও জানান যে, এই প্রকল্পটি নিছক সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। যদিও সোনালি সাইনেজ লাগানো বা রোজ গার্ডেন পাকা করার মতো কিছু পূর্ববর্তী কাজ আলংকারিক ছিল, তবে প্রধান ফটকের এই পরিবর্তন নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এ বিষয়ে সিক্রেট সার্ভিসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। প্রধান ফটক ছাড়াও হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তার জন্য আরও কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যেখানে হোয়াইট হাউসের উত্তর পাশের লাফায়েট পার্কটি স্থায়ী প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলার কথা বলা হয়েছে। সাধারণত প্রেসিডেন্টের চলাচলের সময় এই পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। স্থায়ী প্রাচীর নির্মাণের ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী রাস্তাটি আরও সহজে বন্ধ করা সম্ভব হবে।
ইউএস সিক্রেট সার্ভিস, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী কার্যালয় এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র বিভাগ যৌথভাবে এই প্রস্তাবটি ‘ইউএস কমিশন অব ফাইন আর্টস’-এর কাছে পাঠিয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একাধিকবার হত্যাচেষ্টার ঘটনা এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে এই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই সেখানে ৯০ হাজার বর্গফুটের একটি বিশাল বলরুম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রকল্পের যৌক্তিকতাকেই তুলে ধরে।
রিপোর্টারের নাম 




















