কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের স্বপ্নযাত্রা অব্যাহত রেখে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে তারা ২-১ গোলে হারিয়েছে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে। শেষ চারের লড়াইয়ে স্পেনের প্রতিপক্ষ হলো আরেক ইউরোপীয় পরাশক্তি ফ্রান্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে দাপট দেখায় স্পেন। ৩০তম মিনিটে সেই চাপের ফল পায় তারা। ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর বাড়ানো বল থেকে দানি ওলমোর শট বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোয়র্তোয়া ফিরিয়ে দিলেও, ফিরতি বলে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে জোরালো শটে জাল কাঁপান ফাবিয়ান রুইজ। এটি ছিল বিশ্বকাপে রুইজের প্রথম গোল এবং তার দল এই ম্যাচেও অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখলো।
গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে বেলজিয়াম। ৪১তম মিনিটে টিমোথি কাস্তানিয়ের দারুণ ক্রস থেকে চার্লস ডি কেটেলারে হেডে গোল করে সমতা ফেরান। এই গোলের আগে স্পেন বিশ্বকাপে টানা ৬৪৯ মিনিট কোনো গোল হজম করেনি, যা ডি কেটেলারের হেড ভাঙলো।
বিরতির পর উভয় দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিচ্ছিলেন বেলজিয়ামের তারকা গোলরক্ষক থিবো কোয়র্তোয়া। কিন্তু ৭২তম মিনিটে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তার বদলি হিসেবে নামেন সেনে ল্যামেন্স। এই পরিবর্তনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র দুই মিনিট আগে দূরপাল্লার এক শট ল্যামেন্স ঠিকমতো তালুবন্দি করতে পারেননি। ফিরতি বল চলে আসে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মোরিনোর কাছে। কোনো ভুল না করে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মোরিনো।
শেষ মুহূর্তে বেলজিয়াম সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় এবং অতিরিক্ত সময়ে একটি ভালো সুযোগও তৈরি করে। তবে স্পেনের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক উনাই সিমনের দৃঢ়তায় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির। ২০১০ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আরও একবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো তারা। এবার তাদের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা—বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির এই লড়াইয়ে কে ফাইনালে যাবে, তা জানতে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব।
রিপোর্টারের নাম 






















