ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসি মানেই যেন এক অন্য জগৎ, যেখানে নিখুঁত ফ্রি-কিক বা ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে গোল করার অবিশ্বাস্য দৃশ্য নিত্যনৈমিত্তিক। তবে যখন তিনি পেনাল্টি স্পটে দাঁড়ান, তখন কোটি ভক্তের মনে জাগে এক অজানা শঙ্কা। চলতি বিশ্বকাপে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করার পর মেসির বুনো উদ্যাপনই যেন বলে দিচ্ছিল, মাঠের ভেতরে কতটা মানসিক চাপ নিয়ে খেলছিলেন এই ফুটবল জাদুকর। প্রথমার্ধে মিসরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেরের কাছে পেনাল্টি মিস করার পর মেসি নিজেই স্বীকার করেছেন, গোলটি করতে পেরে যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। তার মনে হচ্ছিল, পেনাল্টি মিসের কারণে হয়তো দলকে একাই ডুবিয়ে দিলেন তিনি!
দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসি এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো টানা দুটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড গড়লেন। তবে এবারের ঘটনাটি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় একটু ভিন্নভাবে জায়গা করে নিয়েছে এর দ্রুততার কারণে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে এই বিশ্বকাপেই অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে দুটি স্পট-কিক মিস করেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের আগের যেকোনো পেনাল্টি খরার চেয়ে দ্রুততম। ক্যারিয়ারে প্রথম বড় পেনাল্টি মিস করেন ২০১৪ সালে, সে বছর টানা ৩টি পেনাল্টি মিস করেছিলেন। এরপর ২০২১ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কেইলর নাভাসের কাছে পেনাল্টি মিসের ৫৩ দিন পর লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার সিলেসেন তার শট আটকে দেন।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে পেনাল্টি শুটআউট বা স্পট-কিক আর্জেন্টিনার জন্য বরাবরই এক ভয়ের নাম। বিশ্বকাপে নেওয়া ৮টি পেনাল্টির ৪টিই মিস করেছে আর্জেন্টিনা। আর এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের সমীকরণটি আরো ভারী করেছেন মেসি নিজেই। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড যেমন তার, তেমনি এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিসের তিক্ত স্বাদও পেতে হয়েছে এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।
তবে, বিশ্বকাপের এই জোড়া ব্যর্থতা দেখে যারা মেসিকে পেনাল্টিতে ‘দুর্বল’ ভাবছেন, তাদের জন্য তার ক্যারিয়ারের সামগ্রিক পরিসংখ্যান এক বড় চপেটাঘাত। ক্যারিয়ারে নেওয়া ১৬১টি পেনাল্টির মধ্যে ১২৫টিতেই গোল করেছেন, যার সাফল্যের হার ৭৭.৬৪%। পেনাল্টি স্পটের কিছু ভুলত্রুটি ছাপিয়েও মেসি এই বিশ্বকাপেও তার চেনা রূপেই পারফর্ম করে চলেছেন, যা তাকে সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















