ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

৩৪ ম্যাচ অপরাজেয় মরক্কো: আফ্রিকার রূপকথা এখন বাস্তব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপ ফুটবল যেন প্রতি আসরেই নতুন কোনো রূপকথা নিয়ে আসে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে মরক্কোর নাম, যাদের উত্থানকে অনেকে ‘সিন্ডারেলার গল্প’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। তবে মরক্কোর এই যাত্রা কেবল রূপকথা নয়, বরং বহু বছর ধরে শিকড় গেড়ে বেড়ে ওঠা এক বটবৃক্ষের মতো শক্তিশালী বাস্তব।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কানাডার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় মরক্কোর ধারাবাহিকতারই প্রমাণ। ম্যাচের প্রথম পনেরো মিনিটে কানাডার আধিপত্য থাকলেও, মরক্কোর রক্ষণভাগ দৃঢ় ছিল এবং গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনু একাধিকবার দলকে রক্ষা করেন। মরক্কোর দল বড় দলের মতো ঝড়ের মুখে ভয় পায় না, বরং ঝড় কেটে যাওয়ার অপেক্ষা করতে জানে। তারা সুন্দর ফুটবলের চেয়ে জয়কে বেশি গুরুত্ব দেয় এবং প্রয়োজনে শিল্পী বা সৈনিক—দুই ভূমিকাতেই সাবলীল।

কানাডাকে হারানোর মাধ্যমে মরক্কো টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে, যা কেবল পরিসংখ্যান নয়, ধারাবাহিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০২৫ সালের আগস্টে কেনিয়ার কাছে হারের পর থেকে কোনো দল তাদের হারাতে পারেনি। বিশ্বকাপ, আফ্রিকান বাছাই, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ—সবক্ষেত্রেই তারা নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। একসময় আফ্রিকার দলগুলো বিশ্বকাপে কেবল ‘অতিথি’ হিসেবে আসলেও, মরক্কো সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। ২০২২ সালে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে তারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল, এবং এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে আবারও কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। এখন তাদের সাফল্যকে আর বিস্ময় বলা যায় না, বরং ব্যর্থ হওয়াই হবে বিস্ময়কর।

মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওহাবি বলেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা আমাদের পরিচয় বদলাইনি। কঠিন মুহূর্ত এসেছে, কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি আমরা কার জন্য খেলছি।’ এই কথাটি শুধু একটি বক্তব্য নয়, এটি পুরো মরক্কোর ফুটবল দর্শনের প্রতিচ্ছবি। কারণ এই দল শুধু এগারো জন ফুটবলারের সমষ্টি নয়, বরং তারা একটি জাতির আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এই আত্মবিশ্বাস রাতারাতি জন্ম নেয়নি, বরং দীর্ঘ পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফসল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও শিশুপুত্র নিহত, অপর সন্তান গুরুতর আহত

৩৪ ম্যাচ অপরাজেয় মরক্কো: আফ্রিকার রূপকথা এখন বাস্তব

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবল যেন প্রতি আসরেই নতুন কোনো রূপকথা নিয়ে আসে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে মরক্কোর নাম, যাদের উত্থানকে অনেকে ‘সিন্ডারেলার গল্প’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। তবে মরক্কোর এই যাত্রা কেবল রূপকথা নয়, বরং বহু বছর ধরে শিকড় গেড়ে বেড়ে ওঠা এক বটবৃক্ষের মতো শক্তিশালী বাস্তব।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কানাডার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় মরক্কোর ধারাবাহিকতারই প্রমাণ। ম্যাচের প্রথম পনেরো মিনিটে কানাডার আধিপত্য থাকলেও, মরক্কোর রক্ষণভাগ দৃঢ় ছিল এবং গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনু একাধিকবার দলকে রক্ষা করেন। মরক্কোর দল বড় দলের মতো ঝড়ের মুখে ভয় পায় না, বরং ঝড় কেটে যাওয়ার অপেক্ষা করতে জানে। তারা সুন্দর ফুটবলের চেয়ে জয়কে বেশি গুরুত্ব দেয় এবং প্রয়োজনে শিল্পী বা সৈনিক—দুই ভূমিকাতেই সাবলীল।

কানাডাকে হারানোর মাধ্যমে মরক্কো টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে, যা কেবল পরিসংখ্যান নয়, ধারাবাহিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০২৫ সালের আগস্টে কেনিয়ার কাছে হারের পর থেকে কোনো দল তাদের হারাতে পারেনি। বিশ্বকাপ, আফ্রিকান বাছাই, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ—সবক্ষেত্রেই তারা নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। একসময় আফ্রিকার দলগুলো বিশ্বকাপে কেবল ‘অতিথি’ হিসেবে আসলেও, মরক্কো সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। ২০২২ সালে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে তারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল, এবং এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে আবারও কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। এখন তাদের সাফল্যকে আর বিস্ময় বলা যায় না, বরং ব্যর্থ হওয়াই হবে বিস্ময়কর।

মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওহাবি বলেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা আমাদের পরিচয় বদলাইনি। কঠিন মুহূর্ত এসেছে, কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি আমরা কার জন্য খেলছি।’ এই কথাটি শুধু একটি বক্তব্য নয়, এটি পুরো মরক্কোর ফুটবল দর্শনের প্রতিচ্ছবি। কারণ এই দল শুধু এগারো জন ফুটবলারের সমষ্টি নয়, বরং তারা একটি জাতির আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এই আত্মবিশ্বাস রাতারাতি জন্ম নেয়নি, বরং দীর্ঘ পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফসল।