বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ এক রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নাটকীয় এই জয় বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙা উল্লাসের জন্ম দিয়েছে, যার ঢেউ আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের রংপুরেও।
খেলা শুরুর ২৮ মিনিটের মাথায় লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা কিছুটা ছন্দ হারালে সেই সুযোগ কাজে লাগায় কেপ ভার্দে। ৫৯ মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের গোলে তারা সমতা ফেরায়, স্কোরলাইন হয় ১-১। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষেও স্কোর একই থাকলে ম্যাচ অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ায়।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই, ৯১ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে জোরালো শটে ভোজিনহাকে বোকা বানিয়ে গোল করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন। তবে ১০৩ মিনিটে কেপ ভার্দের সিডনি ক্যাব্রাল সেই গোল শোধ করে আবারও সমতা ফেরান। শেষ পর্যন্ত, মেসির নেওয়া একটি নিখুঁত কর্নার থেকে উড়ে আসা বল কেপ ভার্দে ডিফেন্ডারের হাতে লেগে জালে জড়ালে আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আকাশি-সাদারা।
এদিকে, রংপুরের পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখতে ভোর সাড়ে ৪টা বাজার আগে থেকেই জড়ো হতে শুরু করেন আর্জেন্টিনা ভক্তরা। খেলা শুরুর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কেপ ভার্দে যখন বল নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে, তখন ব্রাজিল সমর্থকরা উল্লাস করেছে। আর আর্জেন্টিনা যখন আক্রমণে গেছে, তখন মেসি ভক্তরা বাঁশি বাজিয়ে ও ‘গোল গোল’ চিৎকারে পুরো এলাকা মাতিয়ে তুলেছে।
রংপুর মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাবের সভাপতি জহির আলম নয়ন বলেন, “আমরা সবাই টেনশনে ছিলাম, তবে আত্মবিশ্বাস ছিল আর্জেন্টিনা জিতবে। কেপ ভার্দে ভালো খেলেছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কেপ ভার্দের গোলরক্ষকও অনেক ভালো খেলেছে। তবে আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল আর্জেন্টিনা ভালো খেলেই জিতেছে।”
ব্রাজিলের সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে নয়ন বলেন, “নিন্দুকের মুখে পড়ুক ছাই। এর আগে তারা জাপানের সঙ্গে কী খেলেছে আপনারা সবাই দেখেছেন। আজকে কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনা দুটি দলেই ভালো ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “আর্জেন্টিনা আজ দুর্দান্ত খেলেছে। আমাদের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস দলের দুর্দশার মুহূর্তে হাল ধরেছেন।”
রিপোর্টারের নাম 

























